
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নিয়ে আলোচনা জনগণের কোনো উপকার বয়ে আনবে না। বরং মানুষের সেবা ও উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়নই তাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
তারেক রহমান বলেন, “আমি আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আজ হয়তো আমাদের যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ রয়েছে তাদের নিয়ে কথা বলতে পারতাম। কিন্তু তাতে জনগণের কোনো লাভ হবে না। জনগণের লাভ তখনই হবে যখন আমরা পরিকল্পিতভাবে খাল খনন, স্বাস্থ্যসেবা, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারব। জনগণের লাভ হবে যখন আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সঠিক রাখতে পারব।”
দেশের মানুষের জন্য প্রস্তাবিত পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি দেশে এসে বলেছিলাম দেশের মানুষের জন্য কিছু পরিকল্পনা তৈরি করেছি। সেগুলো হলো, দেশের যে নারী সমাজ রয়েছে, যারা খেটে-খাওয়া মানুষ, তাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড করতে চাই। এ কার্ডের মাধ্যমে প্রতিমাসে একজন গৃহিণী অল্প হলেও কিছু সহযোগিতা পাবে। কেউ কেউ বলছেন, এই অল্প সহযোগিতা দিয়ে কি সংসার চলবে? আমরাও জানি চলবে না। এক মাসে চার সপ্তাহ, অন্তত এক সপ্তাহ যদি সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করতে পারি, সেটিও অনেক মানুষের জন্য বড় সুবিধা। গৃহিণীদের যেমন ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, তেমনি কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা কৃষক কার্ড দিতে চাই। এর মাধ্যমে সার, বীজ ও কীটনাশক সরাসরি পৌঁছে দিতে চাই।”
ফেনীর মানুষের জন্য পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ইনশাআল্লাহ, আমরা মেডিকেল কলেজ করব। কিন্তু গ্রামের মানুষ যেন চিকিৎসা সুবিধা পায়, সেজন্য সারা দেশে হেলথকেয়ার সেবা দিতে চাই। যাদের কাজ হবে ঘরে ঘরে মা-বোনদের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া। তাদের কষ্ট করে বড় কোনো অসুখ-বিসুখ না হলে হাসপাতালে আসতে হবে না। ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর মানুষের এলাকার উন্নয়নে যেমন দাবি আছে, তেমনি বিএনপিরও আপনাদের কাছে একটি দাবি আছে। ধানের শীষকে জয়যুক্ত করাই সেই দাবি। আমরা রাজনীতি করি দেশের মানুষের জন্য। যা বলব চেষ্টা করব বাস্তবায়ন করার জন্য। জনগণই হচ্ছে বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস।”
তিনি আরও জানান, “এক বছর আগে ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরে ভয়াবহ বন্যায় ঘরবাড়ি, ফসল, গবাদি পশুর ক্ষতি হয়েছে। আমরা সারা দেশে খাল খনন করতে চাই। খাল খনন করলে এলাকার মানুষের উপকার হবে। একইভাবে যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে চাই। শহীদ জিয়া ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সময়ে চট্টগ্রামে যেভাবে ইপিজেড হয়েছে, ফেনী অঞ্চলেও আমরা এমন আনতে চাই। এতে মানুষ ফ্যাক্টরিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।”
তারেক রহমান বলেন, “আমাদের এ এলাকার অনেক মানুষ বিদেশে যায়। তাদের যদি প্রশিক্ষণ এবং ভাষা শিক্ষা দেওয়া যায়, তাহলে আরও ভালো বেতন পাওয়া সম্ভব। এজন্য আমরা চাই তরুণদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিখিয়ে বিদেশে পাঠাতে। এতে তাদেরও লাভ হবে, দেশেরও। কারণ তারা ভালো বেতন পাবেন এবং দেশেও বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাতে পারবে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশের মানুষের ভাগ্য বদলানো সম্ভব। এজন্য আপনাদের সাহায্য ও ধানের শীষে সমর্থন লাগবে। আগামী ১২ তারিখ ধানের শীষ বিজয়ী হলেই এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারব।”
তিনি আরও স্মরণ করান, “সারা দেশের মানুষ সাক্ষী আছে, কীভাবে গত ১৫ বছর মানুষের কথা বলার অধিকার ও ভোটের অধিকারকে দাবিয়ে রাখা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে সেই স্বৈরাচার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। আজ একটি পরিবর্তনের সুযোগ এসেছে।”
জনসভায় তিনি বৃহত্তর নোয়াখালীর তিন জেলার ধানের শীষ প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। এছাড়া, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফেনীতে অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন তিনি।