
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে গভীর নলকূপ স্থাপনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক বিএনপি নেতাসহ দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলায় দা, বল্লম ও লাঠিসোঁটা ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (০২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মোহনগঞ্জ উপজেলার পাবই–মোবারকপুর সরকারি সড়কে এ সংঘর্ষ হয়।
আহতরা হলেন, সমাজ সহিলদেও ইউনিয়নের মোবারকপুর গ্রামের মৃত লোকমান হাকিমের ছেলে ও ওয়ার্ড বিএনপি নেতা নুরুল আমিন (৫০) এবং একই গ্রামের মৃত মাইজ উদ্দিনের ছেলে আসাদুজ্জামান (৪০)।
আহতদের উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মোবারকপুর কৃষক সমবায় সমিতির আওতায় ১৯৯১ সালে বিআরডিবির মাধ্যমে একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর ২০২৪ সাল থেকে নলকূপটি বিকল হয়ে পড়ে। পরে সমিতির রেজুলেশনের ভিত্তিতে নলকূপ পুনঃস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনও নেওয়া হয়। সরকারি বরাদ্দ না থাকায় নিজস্ব অর্থায়নে নলকূপ স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়।
তবে একই গ্রামের মতিউর, জসিম, সুরুজ ও বাবুলসহ কয়েকজন ব্যক্তি নলকূপ স্থাপনের বিরোধিতা করে অনুমতি বাতিলের দাবিতে আবেদন করেন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়।
ঘটনার দিন বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে স্থানীয় মাতব্বরদের উদ্যোগে সালিশি বৈঠক বসে। বৈঠকে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আবুল হোসেন, জসিমসহ তাদের সহযোগীরা বিএনপি নেতা নুরুল আমিন ও আসাদুজ্জামানের ওপর হামলা চালায়। এতে তারা দুজনই গুরুতর আহত হন। অভিযোগে আরও বলা হয়, আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে যাওয়ার পথে জসিম উদ্দিন ও আবুল হোসেন শান্তের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আবারও হামলা চালানো হয়, এতে দুজন রক্তাক্ত হন।
এ ঘটনায় আহত বিএনপি নেতা নুরুল আমিন বাদী হয়ে আবুল হোসেন, মতি মিয়া, জসিম উদ্দিন ফেরদৌস ও কেনু মিয়াসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, প্রাথমিক তদন্ত করে আসামির ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’