
পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘিরে রাজধানী ঢাকাজুড়ে প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন, আর মুসল্লিদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে একাধিক জামাতের সময়সূচি ও স্থান। প্রধান জামাত থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকায় আয়োজন, সব মিলিয়ে নগরজুড়ে ঈদের নামাজে অংশ নিতে থাকছে বিস্তৃত ব্যবস্থা।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে বা কোনো অনিবার্য পরিস্থিতি তৈরি হলে সকাল ৯টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে এই জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয় ঈদগাহে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক। বিকল্প ইমাম হিসেবে প্রস্তুত থাকবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফাসসির ড. মাওলানা মো. আবু ছালেহ পাটোয়ারী। প্রধান এই জামাতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের এলাকা মিলিয়ে একসঙ্গে প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। ভিআইপি অতিথিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৩৩০ জনের জন্য পৃথক ব্যবস্থা থাকবে। এর মধ্যে ২৫০ জন পুরুষ এবং ৮০ জন নারী। সাধারণ মুসল্লিদের জন্যও আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৩১ হাজার পুরুষ এবং ৩ হাজার ৫০০ নারীর জন্য পৃথক নামাজের স্থান ও পর্দার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রতি বছরের মতো এবারও পাঁচ দফায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সময়গুলো হলো সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা এবং ১০টা ৪৫ মিনিট। পাশাপাশি দুই সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের মসজিদগুলোতেও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল ৮টায় ঈদের জামাত আয়োজন করা হয়েছে। সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, এতে সংসদ সদস্য, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আশপাশের মুসল্লিরা অংশ নেবেন। এ বছর সেখানে নারীদের জন্যও আলাদা নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামি’আয় দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমটি সকাল ৮টায়, যেখানে ইমামতি করবেন হাফেজ মাওলানা নাজীর মাহমুদ। দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে, এতে ইমামতি করবেন সিনিয়র মোয়াজ্জিন এম এ জলিল।
পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারের মিয়া সাহেবের ময়দান খানকা শরিফ জামে মসজিদে সকাল ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। গেন্ডারিয়ার ধূপখোলা ময়দান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠ এবং দক্ষিণ মুগদার রসুলবাদ জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া বিভিন্ন স্থানে সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম ফরিদাবাদ মাদরাসা জামে মসজিদ, লক্ষ্মীবাজার নূরাণী জামে মসজিদ, গেন্ডারিয়ার মসজিদে বেলাল, মহাখালী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, সরকারি তিতুমীর কলেজ মাঠ, মান্ডার বাইতুন নূর জামে মসজিদ এবং লালবাগের মুন্সী মিয়া জান জামে মসজিদ।
সকাল সাড়ে ৮টায় নারিন্দা মুশুরিখোলা দরবার জামে মসজিদ, দক্ষিণ মুগদার রসুলবাদ জামে মসজিদ এবং জুরাইনের বাইতুল জলিল জামে মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ জমিয়তে আহলে হাদিসের উদ্যোগে উত্তর যাত্রাবাড়ী, খিলগাঁও, মাদারটেক, ভাসানটেক, মোহাম্মদপুর, মিরপুর সাড়ে ১১, শান্তিনগর, ডুমনি ও পাতিরাসহ বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়ভাবে নির্ধারিত সময়ে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় মোট ১৭টি ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।
আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সকাল ৮টায় একটি বড় জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রায় ২৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন।
এ বছর রাজধানীজুড়ে মোট ১ হাজার ৭৭১টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১২১টি ঈদগাহ এবং ১ হাজার ৫৯৯টি মসজিদে নামাজের আয়োজন রয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ঈদের জামাত ঘিরে সমন্বিত নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।