
রাজধানীর আদাবর এলাকায় একটি এমব্রয়ডারি কারখানায় সশস্ত্র হামলার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত নয়টার দিকে মুনসুরাবাদ হাউজিংয়ের আবির এমব্রয়ডারি কারখানায় ৮–১০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে দুই শ্রমিক গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পর কারখানার মালিক মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে আদাবর থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় আটজনকে এজাহারভুক্ত এবং আরও ৮–১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। রোববার গ্রেপ্তার পাঁচজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন—রোহান খাঁন রাসেল (৩০), মারুফ (৩৫), হাসান (২৩), মো. রায়হান (২২) ও মো. রোমান (২৪)। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রোহান খাঁন রাসেল ওরফে কালা রাসেল স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী দলের নেতা এবং তাঁর নেতৃত্বেই হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাসেল আদাবর থানার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং পরিচালনা করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনের পর তাঁর দলের ছিনতাই ও চাঁদাবাজির তৎপরতা বেড়েছে।
কারখানার শ্রমিকরা জানান, শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে কাজ শেষে বের হওয়ার সময় তাঁদের কাছ থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়। শ্রমিকরা ভেতরে ফিরে গেলে হামলাকারীরা সামুরাই, চাপাতি ও ছুরি নিয়ে কারখানায় ঢুকে পড়ে। বাধা দিতে গেলে মো. তোফায়েল (২৮) ও হাফিজ আহমেদ (৪৪) নামে দুই শ্রমিককে কুপিয়ে আহত করা হয়। আহতদের জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে মধ্যরাতে শ্রমিকরা আদাবর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিসহ পাঁচজনকে আটক করে।
মোহাম্মদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা বলেন, “রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে ছিনতাইকারী চক্র আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। তাঁদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”