
চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর আদাবরে এক এমব্রয়ডারি কারখানায় রক্তাক্ত হামলার ঘটনা ঘটেছে। সশস্ত্র হামলায় কয়েকজন শ্রমিক গুরুতর আহত হওয়ার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে দেড় শতাধিক শ্রমিক ও কারখানা মালিক হামলার প্রতিবাদ ও দোষীদের বিচারের দাবিতে আদাবর থানার সামনে অবস্থান নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও পরে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে যায়। এরপর মূল অভিযুক্তসহ তিনজনকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মূল অভিযুক্ত রাসেল, তার সহযোগী মারুফ ও হাসান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এমব্রয়ডারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রায়হান জহিরের ভাতিজা মারুফ হাসান সুমন বলেন, “শনিবার সন্ধ্যায় আমার চাচা আবির মোস্তাফিজুর রায়হান জহিরের কারখানায় আকস্মিকভাবে দেশীয় অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাং চক্রের সদস্যরা হামলা চালায়। এ সময় ওই কারখানার কয়েকজন শ্রমিককে কুপিয়ে আহত করা হয়।”
জানা গেছে, স্থানীয় কিশোর গ্যাং সদস্য রাসেল ওরফে কালা রাসেল ঈদকে সামনে রেখে চাঁদা দাবি করে। দাবি পূরণ না হওয়ায় সন্ধ্যায় তার নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কারখানায় হামলা চালায়। হামলার সময় কয়েকজন শ্রমিককে কুপিয়ে জখম করা হয়। আহতরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হামলার প্রতিবাদে রাত সাড়ে ১০টার দিকে এমব্রয়ডারি কারখানার মালিক ও শ্রমিকরা আদাবর থানার সামনে সড়কে জড়ো হয়ে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে স্লোগান দেন। একপর্যায়ে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
সহকারী পুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “ওই কারখানায় শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার সময় ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র গ্রুপ চাপাতি নিয়ে হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন এবং তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।”
তিনি আরও জানান, রাসেল ওরফে কালা রাসেলের আদাবর ১৬ নম্বরের বাসায় শ্রমিকরা জড়ো হয়ে ঘেরাও করলে পুলিশ তার বাবাকে হেফাজতে নেয়। পরে শ্রমিকরা থানার সামনে অবস্থান নেন। আবির এমব্রয়ডারির মালিক জহির ইতোমধ্যে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় রাসেলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।