
ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ চারটি এলাকায় সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা সকাল ও দুপুরের সময় সড়ক অবরোধ করেছেন। তারা দাবি করছেন ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ অবিলম্বে জারি করা হোক।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে শিক্ষার্থীরা মিছিল আয়োজন করে সায়েন্সল্যাব, ফার্মগেট, টেকনিক্যাল মোড় ও মহাখালীতে অবস্থান নেন। এতে এসব গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যান চলাচল প্রায় বন্ধ থাকে।
আন্দোলনকারীরা জানান, "আমাদের মূল দাবি ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ। কিন্তু নানা টালবাহানা করে এই অধ্যাদেশ পিছিয়ে দেয়া হচ্ছে। আমরা অবিলম্বে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ জারির দাবি জানাচ্ছি।"
তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে আগামী উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন-২০২৫ এর হালনাগাদ খসড়ার অনুমোদন এবং রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করা।
ওই একই দাবিতে টেকনিক্যাল মোড়েও বড় পরিসরে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেন। সকাল ১১টার পর দলে দলে তারা সেখানে একত্রিত হন।
এর আগে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা একটি বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার রাজধানীর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবরোধ কর্মসূচি পালনের কথা জানিয়েছিলেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাত কলেজের সমন্বয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে প্রণীত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন-২০২৫’ খসড়া গত ২৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। খসড়া প্রকাশের পর পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা শুরু হলে মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে একাধিক পরামর্শ সভা আয়োজন করে।
শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, স্টেকহোল্ডারদের মতামতের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় খসড়াটি হালনাগাদ করেছে। ৭ ও ৮ ডিসেম্বর শিক্ষা ভবনের সামনে টানা অবস্থান কর্মসূচির সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে শিক্ষার্থীদের জানানো হয়, ডিসেম্বরের মধ্যেই আনুষঙ্গিক সব কার্যক্রম শেষ করে জানুয়ারির প্রথম দিকে অধ্যাদেশ জারি করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একটি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৫ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভা হতে পারে। শিক্ষার্থীরা চান, ওই সভাতেই হালনাগাদ খসড়ার অনুমোদন ও রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি হোক। এই প্রেক্ষাপটে বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে এক দফা দাবিতে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে শিক্ষার্থীরা তাদের যৌক্তিক দাবির জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাবে।