
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার মূল আসামি ফয়সালের প্রকাশিত দুটি ভিডিও বার্তা ফরেনসিক ও কারিগরি যাচাইয়ের আওতায় এনেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। যাচাই শেষ হলে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানো হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ডিআরইউর শফিকুল কবির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘এ-ফোর বসুন্ধরা পেপার ক্র্যাব বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপি কমিশনার।
হাদি হত্যা মামলার আসামির ভিডিও বার্তা নিয়ে জানতে চাইলে শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ‘ভিডিওটি আমরা পেয়েছি এবং সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হবে।’ তবে তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে বিস্তারিত মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি।
আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনই এখন পুলিশের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তার ভাষায়, ‘জানুয়ারি মাসের ২১ বা ২২ তারিখ থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু হতে পারে। তখনই মূল জটিলতা তৈরির সম্ভাবনা থাকে। আমরা নিরপেক্ষতার সাথে কাজ করতে চাই এবং আগামী ৪০ দিন আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।’
প্রার্থীদের নিরাপত্তা বিষয়ে তিনি জানান, স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) মাধ্যমে ঝুঁকি মূল্যায়ন করে প্রয়োজন অনুযায়ী গানম্যান দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন প্রার্থীকে গানম্যান দেওয়া হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে।
ঢাকার রাজপথে ঘন ঘন অবরোধ ও জনদুর্ভোগের প্রসঙ্গ টেনে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর ২০২৫ সালটিও বেশ উত্তাল ছিল। বিভিন্ন গোষ্ঠীর দাবিদাওয়া নিয়ে রাস্তা ব্লক করার ফলে সাধারণ মানুষ ও রোগীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এই সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা জরুরি।’
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশের কোনো ভুল থাকলে তা তুলে ধরতে হবে। তার মতে, পুলিশ ও গণমাধ্যমের মধ্যে একটি শক্তিশালী ও ইতিবাচক সেতুবন্ধ থাকা প্রয়োজন।
এছাড়া স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে লটারির মাধ্যমে ডিএমপির অফিসার ইনচার্জদের (ওসি) রদবদল করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। স্বীকার করেন, এতে কিছু প্রশাসনিক ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, তবে পুলিশ সদস্যরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার দাবি, বর্তমানে ঢাকা মহানগরীর অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে।