
জাতীয় পরিচয়, স্বাধীনতার প্রতীক এবং দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। তিনি বলেন, জাতিসত্তা, জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকার অবমাননা কিংবা দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো কর্মকাণ্ড কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
শুক্রবার (২৬ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে দর্শন বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত দ্বিতীয় পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জবি উপাচার্য বলেন, ‘যারা আমাদের জাতিসত্তাকে হেয় করতে চায়, বিপন্ন করতে চায়, জাতীয় সংগীতকে অবমাননা করতে চায়, জাতীয় পতাকাকে অপমান করতে চায় কিংবা দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তাদের সঙ্গে কোনো আপস নয়।’
দর্শনচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আজকের এই আয়োজনের যথার্থতা সকলের বন্ধনের দর্শনে অনন্য। আত্ম-অনুসন্ধানের চিরন্তন যে প্রচেষ্টা, অবিরাম যে যাত্রা, তার নামই দর্শন। আমরা মানুষ; আমাদের সৃষ্টি কীভাবে হলো, পৃথিবীতে আমাদের কাজ কী, জীবনের শেষ যাত্রা কোথায়, মৃত্যুর পর কী ঘটে, এসব গভীর চিন্তার নামই দর্শন।’
তিনি আরও বলেন, ‘পৃথিবীর যত সুন্দর, সত্য, মহানুভবতা ও মানবতার জয়গান রয়েছে, তা যুগ যুগ ধরে দর্শন শিক্ষা দিয়ে আসছে। দর্শন ছাড়া মানবসভ্যতার বিকাশ ও উন্নয়ন সম্ভব হতো না। দার্শনিকদের কাজ হলো সত্য ও সুন্দরের অনুসন্ধান করা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করা।’
অনুষ্ঠানের শুরুতে সকালে অ্যালামনাই সদস্যদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এসে শেষ হয়। পরে আলোচনা পর্ব, স্মৃতিচারণ এবং মতবিনিময়ে অংশ নেন বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আরজুমন্দ আরা বানু। উদ্বোধন করেন দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সিত্তুল মুনা হাসান। তিনি বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে এ ধরনের পুনর্মিলনীর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পুনর্মিলনী আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক খন্দকার আমিনুল হক কাকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব নজরুল ইসলাম মামুন। দিনব্যাপী আয়োজনে বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণ, মতবিনিময় এবং সৌহার্দ্য বিনিময়ের মাধ্যমে পুনর্মিলনীর আনন্দ ভাগাভাগি করেন।