
টানা সাত দিন নিখোঁজ থাকার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম নিজেই ক্যাম্পাসে ফিরে এসেছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সহপাঠী ও শিক্ষার্থীরা তাঁর সঙ্গে কথা বলেন।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তিনি কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে ক্যাম্পাসে আসেন।
এর আগে গত ১৮ জুন থেকে সিরাজুল ইসলাম নিখোঁজ ছিলেন। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, জকসু, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন এবং শিক্ষার্থীরা তাঁর সন্ধানে ব্যাপক প্রচারণা চালায়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরুরি মতবিনিময় সভা করে এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তা দিতে একটি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন করে।
বিস্তারিত জানতে চাইলে সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে আমার মানসিক অবস্থা স্বাভাবিক নয়। আমার মাথা ঠিকমতো কাজ করছে না। স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আমার কিছুটা সময় প্রয়োজন।’ এ কারণে নিখোঁজ থাকার বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
সিরাজুল ইসলামের বাবা আবুল কালাম বলেন, ‘আমাকে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল করে জানানো হয়, আমি সিরাজ। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে আছি। তখন আমি বলি, আমি ভার্সিটিতে আছি। জবাবে তিনি বলেন, আচ্ছা ঠিক আছে, তাহলে আমি ভার্সিটির দিকে আসতেছি। পরে জানা যায়, তিনি ভার্সিটির গেটে গিয়ে অসুস্থ বোধ করায় সেখান থেকে চলে যান। এরপর সিরাজের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। এখনো এ বিষয়ে তার সঙ্গে বিস্তারিত কোনো কথা হয়নি। ঘটনাটি হাজারীবাগ এলাকায় ঘটেছিল। যতদূর জানা গেছে, তিনি কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হননি। সবাই বিভিন্নভাবে তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছে। দায়িত্বে থাকা এসআইও যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন। তিনি সারাদিন বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছেন এবং আমাদের কোনো ধরনের হয়রানি করেননি।’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. রইছ উদ্দীন বলেন, ‘শিক্ষার্থী সিরাজ প্রামাণিক কয়েকদিন নিখোঁজ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গভীর উদ্বেগে ছিল। বিষয়টি জানার পরপরই প্রশাসন, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও সাংবাদিকদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতা চাওয়া হয় এবং প্রক্টরের নেতৃত্বে একটি টিম ধানমন্ডি থানায় কাজ করে।’
তিনি বলেন, ‘সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সিরাজকে সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় ফিরে পাওয়া গেছে।’ এ জন্য তিনি পুলিশ প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
সিরাজুল ইসলামের ফিরে আসার খবরে তাঁর সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে তিনি কীভাবে নিখোঁজ ছিলেন এবং গত সাত দিন কোথায় অবস্থান করেছেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।