
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষক সংকট সমাধান এবং পদোন্নতির দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জামাল উদ্দিন। তার অনশনের সাথে ২০ জন মতো শিক্ষক একাত্মতা পোষণ করেছেন।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দপ্তরের কলাপসিবল গেটের সামনে ব্যানার টানিয়ে অনশনে বসেন মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জামাল উদ্দিন।
এর আগে শিক্ষকরা আজ দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তনখোলা হলে বসে মিটিং করেন কর্মসূচিতে যাবেন কি না সে বিষয়ে। সেখানে ৫০ জনের মতো শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষক উপস্থিতি কম হওয়ায় আগামীকাল সকাল ১১টায় আবার শিক্ষকরা মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেবেন।
শিক্ষকদের দাবি, দীর্ঘদিন যাবৎ তাদের পদোন্নতি আটকে রাখা হয়েছে। অধ্যাপক পদে বোর্ড হয়ে গেলেও পদোন্নতি আটকে রাখা হয়েছে, সহযোগী অধ্যাপকদের বোর্ড বসানো হচ্ছে না, সাথে সাথে বিভাগগুলোতে শিক্ষক সংকট চরমে। এসবের প্রতিকার চেয়ে জামাল উদ্দিনের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশ যোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি প্রত্যাশী শিক্ষকদের উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পদোন্নতির নিজস্ব যে নীতিমালা রয়েছে তার সাথে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অভিন্ন নীতিমালার অনেক পার্থক্য রয়েছে। ইউজিসির নির্দেশ পদোন্নতি তাদের নীতিমালা অনুযায়ী হতে হবে যা মানতে চাচ্ছে না শিক্ষকরা।
অনশনরত শিক্ষক ড. মো. জামাল উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ আমাদের শিক্ষক সংকট চরমে, একেকজন শিক্ষককে ১২ থেকে ১৪টি কোর্স পড়াতে হচ্ছে। অন্যদিকে আমাদের ন্যায্য দাবিটুকু মানা হচ্ছে না। আমরা শিক্ষক, আমরা তো লাঠি নিয়ে রাস্তায় নামতে পারি না। তো আমার জায়গা থেকে আমি অনশনে বসেছি, আমার কিছু সহকর্মী আজ আমার সাথে সহমত পোষণ করেছে। আশা করছি আগামীকাল বাকি সহকর্মীরাও আমার সাথে একমত পোষণ করবেন।
আন্দোলনে একাত্মতা পোষণকারী শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সাদেকুর রহমান বলেন, আমাদের অধ্যাপক পদোন্নতি বোর্ড হওয়ার পরেও দীর্ঘদিন নানা অজুহাতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন বঞ্চনার শিকার হচ্ছি আমরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫ সালের নীতিমালা অনুযায়ী দুই বছর আগে আমার পদোন্নতি হওয়ার কথা, কিন্তু এখনো পাইনি। বাধ্য হয়ে আমরা এখন আন্দোলনের দিকে যাচ্ছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, পদোন্নতির বিষয় নিয়ে ইউজিসির অবস্থান শিক্ষকদের আমি জানিয়েছি। ডিনদেরকেও জানিয়ে দিয়েছি, আমি এখনো চেষ্টা করে যাচ্ছি ইউজিসির সাথে আলোচনা করে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধানের।