
‘ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করো। একটার মধ্যে যোগাযোগ করবে, ঠিক আছে? একবার যদি ছেলেপুলে পাঠাতে হয়, ঘটনা ঘটাতে হয়, তবে ৫০ লাখ, ১ কোটি হয়ে যাবে, কমবে না।’
চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ এলাকায় চাঁদা না পেলে লোক পাঠিয়ে হামলার হুমকি দিয়ে এভাবেই এক ব্যক্তির কাছে টাকা দাবি করেন সাব্বির হোসেন ওরফে সানি। শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, সাব্বির বিদেশে পলাতক চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের সহযোগী। তাঁর বাড়ি সাতক্ষীরায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম নগরের হামজারবাগ এলাকায় বসবাস করছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্টে হামজারবাগের বাসিন্দা প্রবাসী মোহাম্মদ ইউসুফের ছেলে মোহাম্মদ শওকতকে ফোন করে চাঁদা দাবি করেন সাব্বির। শওকতও একজন প্রবাসী ব্যবসায়ী। ফোনে পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে সাব্বির বলেন, ‘ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করো। তার সঙ্গে কথা বলো। তার কাতারের নম্বরটাতে যোগাযোগ করে ক্লিয়ার করে ফেলো। যদি ক্লিয়ার না করো, তবে ফ্যামিলির যেকোনো একজনের শরীর প্রথমে বোলতার বাসা বানিয়ে খেলা শুরু হবে। এরপর আস্তে আস্তে তোমার দিকে আসবে। তোমার বাবাকে কল দিলাম না। তিনি হার্টের রোগী, আবার মরেটরে যাবে। তাই তোমারে জানালাম।’
পুলিশ জানায়, ওই ফোনালাপের অডিও রেকর্ড তাদের কাছে রয়েছে। চাঁদার জন্য হুমকির ঘটনার পর ইউসুফের ভবনের ফটকে গুলিও করা হয়। এরপর থেকে সাব্বিরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছিল। তবে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
এ বিষয়ে শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, বড় সাজ্জাদের কাছ থেকে মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন পেতেন সাব্বির। কারাগারে থাকা ডেভিড ইমনের পরিবর্তে চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়িত্বও তাঁকে দেওয়া হয়েছিল। বড় সাজ্জাদের পাশাপাশি তাঁর সহযোগী বোরহান উদ্দিনের নির্দেশনায় মুঠোফোনে চাঁদা দাবি করতেন সাব্বির।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, সাব্বির প্রকাশ্যে কম আসতেন। তাঁর কাজ ছিল সাজ্জাদ ও বোরহানের নির্দেশনা অনুযায়ী ফোন করে চাঁদা দাবি করা। যেসব ব্যবসায়ী বা শিল্পপতির কাছে চাঁদা চাওয়া হতো, তাঁদের বিষয়ে আগেই বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হতো। বড় সাজ্জাদ অন্য একটি দলের মাধ্যমে এসব তথ্য সংগ্রহ করতেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। এরপর সাব্বির ফোন করে চাঁদা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিতেন। টাকা না দিলে লোক পাঠিয়ে হামলা বা গুলির হুমকি দিতেন। হুমকি অনুযায়ী সশস্ত্র হামলার ঘটনাও ঘটাতেন বলে জানান তিনি।
মাসুদ আলম বলেন, গ্রেপ্তার সাব্বিরের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী থানায় দুটি মামলা রয়েছে। তিনি চাঁদা দাবি করলেও ভয়ে বেশির ভাগ ভুক্তভোগী মামলা করেননি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ জুন নগরের চান্দগাঁওয়ের কালুরঘাট শিল্প এলাকায় অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করতে দেখা যায় সাব্বির