
দীর্ঘ দেড় বছর পর কিশোরগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনকে ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তুলে সংঘটিত এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলাজুড়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) জেলা শহরের স্টেশন রোড এলাকায় অবস্থিত পরিত্যক্ত দলীয় কার্যালয়ে প্রায় ১০ জনের একটি দল আসে। তারা সেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে। পুরো ঘটনাটি মোবাইলে ধারণ করা হয় এবং পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
ভিডিওতে দেখা যায়, কার্যালয়ের সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর ছবি সম্বলিত একটি ব্যানার টাঙানো হয়েছে। ব্যানারে লেখা রয়েছে, ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ ছিল, আছে এবং থাকবে।’ ব্যানারের নিচে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ-এর মেজো ছেলে রাসেল আহমেদ তুহিনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায়।
নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলনের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। কেউ এটিকে দলের পুনরুত্থানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বর্তমান প্রেক্ষাপটে, যখন দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ, তখন এ ধরনের পদক্ষেপকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করছেন।
ঘটনাস্থলের পাশের ফুটপাতের এক ব্যবসায়ী জানান, দশজনের একটি দল জাতীয় পতাকা নিয়ে এসে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের নেতাদের উদ্দেশ্যে স্লোগান দেয়। পরে তারা একটি বাঁশের খুঁটির সঙ্গে পতাকা বেঁধে রেখে চলে যায়। তবে কিছু সময় পর সেখানে গিয়ে আর পতাকাটি দেখা যায়নি বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল কামাল ভূঞার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা এটি খতিয়ে দেখছি।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় এবং ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ছাত্র-জনতা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে একাধিক দফায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। সেই ঘটনার পর থেকে কার্যালয়টি পরিত্যক্ত পড়ে আছে। বর্তমানে সেখানে অস্থায়ী চায়ের দোকান বসানো হয়েছে।