
ইরান যুদ্ধ শুরুর প্রায় ৫০ দিনের মাথায় বিশ্ববাজার থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের অপরিশোধিত তেল হারিয়ে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী, এ পরিমাণ তেল আর উৎপাদন করা সম্ভব হয়নি, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পড়তে পারে।
লন্ডনভিত্তিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সংঘাত শুরুর পর থেকেই বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। কেপলার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে ৫০ কোটি ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেট বাজার থেকে হারিয়ে গেছে, যা আধুনিক ইতিহাসে অন্যতম বড় জ্বালানি সংকট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উড ম্যাকেঞ্জির প্রধান বিশ্লেষক ইয়ান মোয়াট বলেন, এই ঘাটতি টানা ১০ সপ্তাহ বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচল বন্ধ থাকার সমান প্রভাব ফেলতে পারে। একইভাবে এটি কয়েক দিন বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ থাকার সমতুল্য বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রাক্কলন অনুযায়ী, হারিয়ে যাওয়া এই তেল যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক মাস এবং ইউরোপের এক মাসের বেশি সময়ের চাহিদা মেটাতে পারত।
কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, উপসাগরীয় দেশগুলো মার্চ মাসে প্রতিদিন প্রায় ৮০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন হারিয়েছে। সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমান থেকে জেট ফুয়েল রপ্তানিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গড় বাজারমূল্য ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ধরে এই ঘাটতির আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার, যা বড় অর্থনীতির জিডিপির উল্লেখযোগ্য অংশের সমান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।
কিছু কুয়েত ও ইরাকের তেলক্ষেত্র স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস সময় নিতে পারে, আর কাতারের এলএনজি স্থাপনা ও শোধনাগারের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কয়েক বছর পর্যন্ত লাগতে পারে।
হরমুজ প্রণালি খোলার ঘোষণা দেওয়া হলেও বড় শিপিং কোম্পানিগুলো এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: রয়টার্স