
জুলাই অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে গত ১৭ মাসে সারা দেশে ৯৭টি মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঢাকায় ৩৬টি ও চট্টগ্রামে ২৮টি হামলা সর্বাধিক পরিসংখ্যানে ধরা পড়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সুফি সংস্কৃতি কেন্দ্রিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ–এর প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি পাঠ করা হয়। সমন্বয়ক মোহাম্মদ আবু সাঈদ প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ পাঠ করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৩৪টি মাজারে হামলার খবর পাওয়া গেলেও, অনুসন্ধানে ৯৭টির হামলার প্রমাণ নিশ্চিত হয়েছে। বাকি ৩৭টির কোনো প্রমাণ মেলেনি, যার মধ্যে ৬টি গুজব হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
হামলার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে— ৫৯টি হামলা ধর্মীয় মতবিরোধ, ২১টি স্থানীয় বিরোধ, ১৬টি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং ১টি পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ মিলিয়ে মোট হামলার সংখ্যা ৬৪টি, যা মোট ঘটনার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। জেলার মধ্যে সর্বাধিক হামলা হয়েছে কুমিল্লায় (১৭টি), নরসিংদীতে ১০টি ও ঢাকায় ৯টি।
হামলার ধরনে পার্থক্য থাকলেও অধিকাংশ ঘটনায় হামলাকারীদের মধ্যে ‘তৌহিদী জনতা’ পরিচয় ও বেশভূষা লক্ষ্য করা গেছে। ২৩টির বেশি ঘটনায় “নারায়ে তাকবির” স্লোগান ব্যবহৃত হয়েছে। মাজারে হামলার সঙ্গে ৭টি মাজার-সংলগ্ন মসজিদও লক্ষ্যবস্তু হয়।
রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততার তথ্য অনুসারে, ১৩টি হামলায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর স্থানীয় নেতা ও সমর্থক জড়িত। এছাড়া ৪টি ঘটনায় বিএনপি, ৪টিতে জামায়াতে ইসলামি, ২টিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ১টিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনিসিপি) ও ১টিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস–এর নেতা–কর্মী জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
হামলার ঘটনায় তিনজন নিহত ও ৪৬৮ জন আহত হয়েছেন। চট্টগ্রামে ৩১ জন, ঢাকায় ১৮০, ময়মনসিংহে ১৫৩, সিলেটে ৪৪, বরিশালে ৩৭ এবং খুলনায় ২৩ জন আহত। নিহতদের মধ্যে দুইজন ঢাকার ও একজন ময়মনসিংহের।
সংবাদ সম্মেলনে মাকাম সমন্বয়ক আবু সাঈদ বলেন, হামলার আগে ১০টি ঘটনায় মাইক ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এখন পর্যন্ত ১১টি ঘটনায় মামলা হয়েছে। ৪৪টি মাজার পরিত্যক্ত হয়ে গেছে, ৬টি মাজার বুলডোজার দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
প্রতিবেদন প্রকাশের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মাজার, দরগাহ ও খানকাগুলোর পুনঃসংস্কার, ক্ষতিপূরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পরিকল্পনা নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ১২টি রাজনৈতিক দলকে চিঠি পাঠানো হয়েছে, যা সব দল গ্রহণ করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আইনি সহায়তা কেন্দ্র ব্লাস্টের প্রতিনিধি আহমেদ ইব্রাহীম, মাকামের গবেষণা দলের সদস্য তৌহিদুল ইসলাম, আবু হাসান মুহাম্মদ মুখতার, মুর্শিদপুর দরবারের প্রতিনিধি মাওলানা মতিউর রহমান এবং চাঁদপুরী শাজ শাহ দরবারের প্রতিনিধি মাওলানা গোলাম জিলানী প্রমুখ।