
বিশ্বের ওষুধ বাজারে ক্রমশ এক সমীহ জাগানিয়া অবস্থানে পৌঁছে যাচ্ছে লাল-সবুজের বাংলাদেশ। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বর্তমানে বিশ্বমঞ্চের ১৪০টিরও বেশি দেশে বাংলাদেশের উৎপাদিত ওষুধ নিয়মিত রপ্তানি করা হচ্ছে, যা আমাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতা ও উত্তরোত্তর অগ্রগতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
আজ সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে এই গৌরবোজ্জ্বল তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আসন্ন ডেঙ্গু মৌসুমকে সামনে রেখে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা নির্বিঘ্ন করতে ‘বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ’ (বিএপিআই)-এর পক্ষ থেকে এক লাখ ইউনিট ইন্ট্রাভেনাস ফ্লুইড (আইভি স্যালাইন) হস্তান্তর উপলক্ষে এই বিশেষ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, স্থানীয়ভাবে উন্নত মানের ভ্যাকসিন (টিকা) উৎপাদনের সক্ষমতা পুরোপুরি অর্জন করা সম্ভব হলে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানির পরিধি ও আয় আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
পূর্ববর্তী প্রশাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “অতীত সরকারের সময় স্বাস্থ্য সরঞ্জাম ও ভ্যাকসিন উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত অগ্রগতি হয়নি। এমনকি ভেন্টিলেটর ও সিরিঞ্জের মতো জরুরি চিকিৎসা উপকরণেরও ঘাটতি ছিল। তবে পরবর্তীতে বেসরকারি খাতের সহযোগিতায় স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে।”
চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও চিকিৎসার প্রস্তুতি নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন জানান, সংকটাপন্ন রোগীদের জরুরি চিকিৎসায় সহায়তা দিতে বিএপিআই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এক লাখ ইউনিট আইভি স্যালাইন অনুদান হিসেবে হস্তান্তর করেছে। এই মুহূর্তে আমাদের কেন্দ্রীয় স্টোরে পর্যাপ্ত পরিমাণে অর্থাৎ আরও এক লাখ স্যালাইন সম্পূর্ণ মজুত রয়েছে।
এছাড়া দেশের প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে আরও ২০ থেকে ২৫ হাজার ইউনিট স্যালাইন আপদকালীন সময়ের জন্য মজুত রাখা হয়েছে। তবে ডেঙ্গুর প্রকোপ ও চাহিদা যদি হঠাৎ বৃদ্ধি পায়, তবে অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার সব ধরনের ব্যাকআপ প্রস্তুতিও সরকারের রয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
এদিকে সম্প্রতি আদ-দ্বীন হাসপাতালে আশঙ্কাজনকভাবে শিশুমৃত্যুর ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে মন্ত্রী জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দেওয়া কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশের জবাব দিতে আরও দু’দিন সময় বাড়ানো হয়েছে। এই নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তারা সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে জনস্বার্থে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
উক্ত অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, ডেঙ্গুর মৌসুম সামনে রেখে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং আক্রান্তের হার কমাতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।” ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণসহ দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের জন্য বর্তমানে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে কাজ চলছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।