
আমদানি পণ্যের ওপর ঢালাও শুল্ক আরোপ করে বাণিজ্য যুদ্ধের যে পথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হাঁটছিলেন, তাতে বড় ধরনের আইনি বাধা হয়ে দাঁড়াল দেশটির বিচার বিভাগ। ট্রাম্প প্রশাসনের জারিকৃত সব আমদানির ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন ফেডারেল আদালত। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের থেকে নেওয়া অর্থ দ্রুত ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও আইনি ব্যাখ্যা
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত এক রায়ে জানিয়েছে, ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন (Trade Act) অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট যে শুল্ক আরোপ করেছেন, তার পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি নেই। সরকারের পক্ষ থেকে বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতির যে অজুহাত দেওয়া হয়েছিল, আদালত তা প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে যে, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি যার জন্য এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ বৈধ হতে পারে।
আইন অনুযায়ী, বিশেষ পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা রাখেন। তবে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বর্তমান মামলার ক্ষেত্রে সেই বিশেষ শর্তগুলো পূরণ করা হয়নি। ফলে প্রেসিডেন্টের এই নির্বাহী পদক্ষেপটি আইনিভাবে অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
অর্থ ফেরত ও ভবিষ্যৎ নির্দেশনা
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, মামলার সঙ্গে যুক্ত আমদানিকারকদের কাছ থেকে আর কোনো শুল্ক আদায় করা যাবে না। এছাড়া ইতিপূর্বে তাদের কাছ থেকে শুল্ক বাবদ যে অর্থ সংগৃহীত হয়েছে, তা সরকারকে ফেরত দিতে হবে। তবে রায়ে একটি বিষয় পরিষ্কার করা হয়েছে যে, এই সুবিধা আপাতত শুধু মামলাকারীদের জন্যই প্রযোজ্য। মামলার বাইরের অন্য আমদানিকারকদের ক্ষেত্রে এই শুল্ক আগামী জুলাই মাস পর্যন্ত বহাল থাকতে পারে।
চাপে ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতি
সারা বিশ্বের ওপর ঢালাও শুল্ক আরোপের ক্ষমতা বর্তমানে সংকুচিত হয়ে আসায় ট্রাম্প প্রশাসন এখন দেশভিত্তিক আলাদা শুল্ক নীতি গ্রহণের কথা ভাবছে। এদিকে, ফেডারেল আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে দ্রুতই আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টও ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কিছু অংশকে অবৈধ বলে রায় দিয়েছিল। বারবার আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ায় ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতি এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় বিশ্ব বাণিজ্যে আমেরিকার অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে এবং ভবিষ্যতে প্রশাসনের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা আরও সীমিত হয়ে আসতে পারে।