
হিপহপ সংস্কৃতির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ব্যক্তিত্ব আফ্রিকা বামবাটা মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বৃহস্পতিবার ক্যানসারজনিত জটিলতায় তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
আফ্রিকা বামবাটার জন্ম নাম ছিল ল্যান্স টেইলর। তিনি নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বেড়ে ওঠেন এবং তরুণ বয়সেই সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৭৩ সালে তিনি ইউনিভার্সাল জুলু নেশন নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন, যা তরুণদের সহিংসতা থেকে দূরে রেখে সঙ্গীত ও সৃজনশীলতার পথে এগিয়ে নিতে কাজ করত। সংগঠনটি পরে হিপহপ আন্দোলনের বৈশ্বিক বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তাঁর ১৯৮২ সালের জনপ্রিয় গান ‘প্ল্যানেট রক’ হিপহপ সঙ্গীতের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় তৈরি করে। বৈদ্যুতিক সুর ও নতুন ছন্দের সংমিশ্রণে গানটি দ্রুত বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায় এবং হিপহপকে মূলধারার সঙ্গীত সংস্কৃতিতে জায়গা করে দিতে সহায়তা করে।
হিপহপ অ্যালায়েন্স নামের একটি সংগঠন তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানায়, বামবাটা এমন এক সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ভিত্তি গড়ে দিয়েছেন, যা শান্তি, ঐক্য, ভালোবাসা এবং আনন্দের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে। সংগঠনটি আরও জানায়, তাঁর কাজ ব্রঙ্কসকে এমন এক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে, যেখান থেকে জন্ম নিয়েছে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া একটি সংস্কৃতি।
তবে জীবনের শেষ অধ্যায়ে তাঁর সুনাম নানা বিতর্কের মুখে পড়ে। তাঁর বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন ও মানবপাচারের অভিযোগ ওঠে, যা তিনি অস্বীকার করে আসছিলেন। পরে এসব অভিযোগ নিয়ে আইনি প্রক্রিয়াও সামনে আসে এবং বিষয়টি ঘিরে তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
সত্তর ও আশির দশকে তিনি শুধু সংগীতেই নয়, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রকল্পেও যুক্ত ছিলেন। বর্ণবাদবিরোধী সাংস্কৃতিক উদ্যোগসহ বিভিন্ন আন্দোলনের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িত ছিল। সংগীত ও সংস্কৃতিতে তাঁর অবদান যেমন প্রভাবশালী ছিল, তেমনি বিতর্কও তাঁর উত্তরাধিকারকে জটিল করে তুলেছে।
তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হিপহপ বিশ্বের অনেকেই শোক প্রকাশ করছেন, কারণ আধুনিক হিপহপের ভিত্তি নির্মাণে আফ্রিকা বামবাটার ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।