
বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। তাঁর দাবি, বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে সব ধর্মের মানুষ নির্বিঘ্নে নিজেদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ নীতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।
রোববার (১১ অক্টোবর) কুমিল্লার দাউদকান্দি পৌর সদরে ‘মারুফ ভিলা’ প্রাঙ্গণে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন খন্দকার মারুফ।
‘সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে চায় বিএনপি’
খন্দকার মারুফ হোসেন বলেন, বিএনপির দৃষ্টিতে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের মধ্যে কোনো বিভাজন থাকা উচিত নয়। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের পরিচয়ে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষ এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সদস্যরা সমান অধিকার ভোগ করবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তাঁর অভিযোগ, আওয়ামী লীগের শাসনামলে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ অন্যান্য ধর্মের মানুষ উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটিয়েছেন। সংখ্যালঘু পরিচয়কে সামনে রেখে তাঁদের ওপর নিপীড়ন চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
চলতি বছরের দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে খন্দকার মারুফ বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের সহিংসতা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে সরকার নজরদারি জোরদার করেছে।
দুর্গাপূজাকে সম্প্রীতি ও মিলনের উৎসব হিসেবে দেখার আহ্বান
দুর্গাপূজাকে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব হিসেবে উল্লেখ করেন বিএনপির এই নেতা। তাঁর ভাষায়, অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ ও সত্যের বিজয়ের প্রতীক এই উৎসব।
তিনি বলেন, দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বিভিন্ন ধর্ম ও শ্রেণি-পেশার মানুষের মিলনমেলার উপলক্ষ। মহিষাসুর বধের মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির পতনের প্রতীকী তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি সমাজ থেকে অন্যায়, বিভেদ ও অকল্যাণ দূর হওয়ার প্রত্যাশা জানান।
খন্দকার মারুফ বলেন, মহালয়া থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত পূজার দিনগুলোতে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ আনন্দ ভাগাভাগি করেন। পূজামণ্ডপগুলো সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের কেন্দ্রে পরিণত হয়। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিময় সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে দুর্গোৎসব চলাকালে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সতর্ক প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
৬১টি পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের কুমিল্লা উত্তর জেলা আহ্বায়ক দুলাল দেবনাথের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আবুল হাশেম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দাউদকান্দি পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক মধু চন্দ্র সরকার।
সভায় দাউদকান্দি উপজেলা, দাউদকান্দি পৌরসভা ও মেঘনা উপজেলার ৬১টি দুর্গাপূজামণ্ডপের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট নেতারা অংশ নেন। তাঁদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান খন্দকার মারুফ। পাশাপাশি ৬১টি পূজামণ্ডপে আর্থিক অনুদান দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এম এ লতিফ ভূঁইয়া, দাউদকান্দি পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, মেঘনা বিএনপির আহ্বায়ক মো. রমিজউদ্দিন লন্ডনী, বিএনপি নেতা জসিমউদ্দিন আহমেদ, ভিপি জাহাঙ্গীর আলম, পিটার চৌধুরী, আবদুস সাত্তার, কাউসার আলম সরকার, আরিফ মাহমুদ, ভিপি শাহাবুদ্দিন ভূঁইয়া ও শরীফ চৌধুরী।
এ ছাড়া পূজা উদযাপন ফ্রন্টের মেঘনা উপজেলার রতন সাহা এবং দাউদকান্দির যুবরাজ দত্ত, অশোক সাহা ও রাধেশ্যাম মিত্রসহ অন্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।