শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম ওরফে মাসুদ এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে (৩৪) ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কনস্যুলার সুবিধা চেয়েছে বাংলাদেশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, “গত শনিবার রাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকা থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের বিষয়ে ভারতের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের কলকাতা মিশন থেকে রোববারই (৮ মার্চ) ভারতের কাছে কনস্যুলার অ্যাক্সেসের আবেদন করা হয়েছে। আমরা আশা করি, দ্রুত এ সুবিধা পাওয়া যাবে এবং এরপর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রতিমন্ত্রী একই সঙ্গে জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, “জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, তাদের বিচারের ব্যাপারে সরকার আন্তরিক।”
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি ঢাকা–৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছিলেন। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তরা তাকে মাথায় গুলি করে আহত করে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের তদন্তে জানা যায়, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম গুলি চালিয়ে ওসমান হাদিকে হত্যা করেন এবং আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী আলমগীর হোসেন এই হত্যাকাণ্ডে সহায়তা করেন। পরিকল্পনা ও নির্দেশনার মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ঘটনার পর তিনজনই ভারতে পালিয়ে যান।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স ৮ মার্চ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ফয়সাল করিম (৩৭) ও আলমগীর হোসেনকে বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
গ্রেপ্তারের পর তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির।