
দেশের শিল্পখাতে গভীর সংকটের চিত্র তুলে ধরে দ্রুত কার্যকর আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। তার তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ৩৫০টি গার্মেন্টস ও ৫০টির বেশি টেক্সটাইল কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।
বুধবার (৪ মার্চ) সকালে রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টার-এ আয়োজিত ‘লুকিং ইনটু বাংলাদেশ’স ডেভেলপমেন্ট: প্রায়োরিটি ফর দ্য নিউলি ইলেক্টেড গভর্নমেন্ট ইন দ্য শর্ট টু মিডিয়াম টার্ম’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকের আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘এই সরকার নতুন ইন্ডাস্ট্রি নতুন কর্মসংস্থান দেখবে না—আমি আপনাদের সকলকে বলে রাখলাম। আপনার বাস্কেটে ৩৫০টি গার্মেন্টস বন্ধ হয়ে গেছে, ৫০-এর অধিক টেক্সটাইল বন্ধ হয়ে গেছে। এই টেক্সটাইলগুলো একেকটা হাজার কোটি টাকার ইনভেস্টমেন্ট, কিন্তু বন্ধ হয়ে গেছে মাত্র ২০০ কোটি টাকার জন্য।’
তিনি কারখানাগুলো পুনরায় সচল করতে পুনঃঅর্থায়নের ওপর জোর দেন। তার ভাষায়, ‘শুধু ঋণ পুনঃতফসিল (রিশিডিউল) করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। আমরা সবসময় রিশিডিউলকে একটা ইজি ওয়ে ফরওয়ার্ড মনে করি। ব্যাংক তার বুক ক্লিয়ার করার জন্য রিশিডিউল করে দিচ্ছে, কিন্তু প্রবলেম সলভ করছে না। ছয় মাস, দুই মাস এ রকম করছে। রিশিডিউলের পাশাপাশি আপনাকে রিফাইন্যান্সও করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রিফাইন্যান্সের মাধ্যমে দেখতে হবে বিনিয়োগটি আবার দাঁড়াতে পারছে কি না। যদি পারে, আপনাকে এটা সার্ভিস করতে হবে।’
বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোর পেছনে আংশিকভাবে ব্যাংক খাতের দায় রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘এই যে ৩০০টি ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে গেল, এর মধ্যে আমি মনে করি বেশ অর্ধেকই হচ্ছে ব্যাংকের দোষ। এলসি আসছে, ব্যাক টু ব্যাক করতে পারিনি। বিদেশ থেকে এলসি এসেছে, কিন্তু ব্যাক টু ব্যাক করতে না পারায় আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র—এক্সেসরিজ, কেমিক্যাল—কেনা যায়নি। ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে গেল। দোষটা কার?’
তিনি অভিযোগ করেন, সময়মতো অর্থায়ন ও যথাযথ নজরদারির অভাবেই বহু প্রতিষ্ঠান সংকটে পড়েছে। ‘আপনি সময়মতো অর্থায়ন করেন না, সময়মতো কর্ণপাত করেন না, দৃষ্টিপাত করেন না’—এ কারণেই পরিস্থিতি জটিল হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিটিএমএ সভাপতি বলেন, আগামী ১৮০ দিনে নতুন প্রকল্প ভাবার চেয়ে বর্তমানে বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কীভাবে পুনরুজ্জীবিত করা যায়, সে বিষয়ে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি। তার কথায়, ‘ওভার অ্যাম্বিশাস (অবাস্তব উচ্চাকাঙ্ক্ষা) কিছু চিন্তা না করে— যেগুলো আপনার বাস্কেটে আছে, এগুলোকে কীভাবে রিপেয়ার করবেন, সেদিকে চিন্তা করা উচিত, সেগুলো নিয়ে আরও কাজ করা উচিত।’
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। স্বাগত বক্তব্য দেন মাহফুজ আনাম। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, ডিসিসিআইর সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ, বেসিস-এর সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম, বেসিসের সাবেক সভাপতি ও বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি-এর এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, পলিসি রিসার্চের ভাইস চেয়ারম্যান ড. সিদ্দিক আহমেদ, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম সভাপতি দৌলত আকতার মালা এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান ড. মাশরুর রিয়াজ।