
ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা ব্যবসায় বিনিয়োগ না করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে না—এমন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন এ কে আজাদ। তিনি বলেন, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিষয়ে শক্ত অবস্থান নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
বুধবার (০৪ মার্চ) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন: স্বল্প ও মধ্য মেয়াদে নতুন সরকারের অগ্রাধিকার’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি। এ বৈঠকের আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও দ্য ডেইলি স্টার।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সঞ্চালনায় ছিলেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথোরিটি-এর নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর ভাইস চেয়ারম্যান সাদিক আহমেদ, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ, বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, বেসিস-এর সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক মাঈন উদ্দিন, বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক আসিফ ইব্রাহীম, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন-এর সাবেক সদস্য মোস্তফা আবিদ খান, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ-এর সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুল আমিন এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ।
গোলটেবিলে এ কে আজাদ বলেন, ‘বর্তমানে দেশে ৩৬ শতাংশ গড় ঋণ খেলাপি। আর সরকারি ব্যাংকের ঋণ খেলাপি হচ্ছে ৫০ শতাংশ। এই টাকাগুলো কারা নিল? যারা ইচ্ছাকৃত খেলাপি, তাদের জন্য “ঋণ থেকে মুক্তির” একটি সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আমরা এটাকে সমর্থন করি। কিন্তু যারা টাকা নিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেনি, তাদের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর হস্তে ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে কিন্তু অর্থনীতি ভালো জায়গায় আসবে না।’
কর্মসংস্থান বাড়াতে জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি। তার ভাষায়, ‘কারখানায় গ্যাস–সংযোগের জন্য মন্ত্রণালয় ও তিতাসে হাজার হাজার আবেদন জমা পড়ে আছে। কিন্তু কোনো নতুন সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। নতুন সংযোগ না হওয়ায় আমরা নতুন শিল্প বিনিয়োগ করতে পারছি না, মূলধনি যন্ত্রপাতি আনতে পারছি না। ফলে কর্মসংস্থানও বাড়ছে না।’
গ্যাসের মূল্য ও সরবরাহ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এ শিল্পোদ্যোক্তা। তিনি বলেন, ‘গ্যাসের জন্য আমি দ্বিগুণ দাম পরিশোধ করছি। অথচ আমি সিএনজি থেকে গ্যাস নিয়ে কারখানায় বয়লার চালাই। আপনারা (সরকার) বাসাবাড়িতে গ্যাস সিস্টেম (সংযোগ) বন্ধ করে দেন। এখানে তো কোনো কর্মসংস্থান হচ্ছে না। তারা এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করুক। লাইনের গ্যাসটা যদি শিল্পে দেন, তাহলে কারখানা চলতে পারে।’
বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ ৩২ দশমিক ১৯ শতাংশ। সেখানে বেসরকারি খাতের ঋণ মাত্র ৬ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ, আমার (বেসরকারি খাত) জন্য টাকা নেই, কিংবা টাকা থাকলেও আমি তা নিতে পারছি না। কারণ, বিনিয়োগ করব কোথায়, আমার তো গ্যাস–সংযোগই নেই।’
সরকারের সব স্তরে সুশাসন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন এ কে আজাদ। তার ভাষ্য, সরকার গ্যাসে ভর্তুকি দিলেও প্রায় ১০ শতাংশ গ্যাস চোরাই লাইনের মাধ্যমে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে চলে যাচ্ছে। তিতাসের কর্মীরা দিনে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেও সন্ধ্যায় তা আবার চালু হয়ে যায়—এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, আইনের শাসন কার্যকর না হলে সরকারি ব্যয় কমানো সম্ভব নয়।