
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর চাপ বাড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জার্মান সাময়িকী ডার স্পিগেল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের মধ্যে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। বৈঠকের পর রুটে ইউরোপীয় দেশগুলোকে জানান, ওয়াশিংটন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে ‘সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার’ প্রত্যাশা করছে। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে কথা বলা একাধিক ইউরোপীয় কূটনীতিকের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করে ডার স্পিগেল।
কূটনীতিকরা এ অনুরোধকে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘চূড়ান্ত আল্টিমেটাম’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—মিত্রদের অস্পষ্ট রাজনৈতিক আশ্বাস আর গ্রহণযোগ্য নয়। তবে ওয়াশিংটন ন্যাটোর অধীনে আনুষ্ঠানিক মিশন গঠনের জন্য চাপ দিচ্ছে নাকি পৃথকভাবে ইউরোপীয় দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে বলছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
অন্যদিকে, জার্মানিসহ ইউরোপের কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ এখন পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে নৌবাহিনী পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করেছে। তাদের বক্তব্য, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে যথাযথ পরামর্শ করেনি। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠালে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ বলেন, “সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কোনো সুস্পষ্ট কৌশল নেই।” তিনি জানান, কেবল যুদ্ধবিরতির পর আন্তর্জাতিক ম্যান্ডেট এবং জার্মান পার্লামেন্টের অনুমোদন সাপেক্ষেই জার্মানি হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে।
এদিকে ন্যাটোর পক্ষ থেকে প্রত্যাশিত সমর্থন না পাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। বুধবার (৮ এপ্রিল) মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, “আমাদের যখন তাদের প্রয়োজন ছিল, তখন ন্যাটো পাশে ছিল না। ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হলে তারা থাকবে না।”
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে এই টানাপোড়েন ভবিষ্যতে পশ্চিমা জোটের অভ্যন্তরীণ সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: আনাদোলু