
সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর ৭০৭তম ওরসকে সামনে রেখে মাজার এলাকায় বাদ্যযন্ত্র বাজানো, নেচে-গেয়ে গিলাফ ছড়ানো এবং ‘অনৈতিক কার্যকলাপ’ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ধর্মীয় আয়োজনকে ঘিরে প্রতিবছর উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হলেও এবার তার সঙ্গে যুক্ত কিছু প্রচলিত চর্চার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে ভক্তদের মধ্যেও।
মঙ্গলবার (৫ মে) সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওরস চলাকালে মাজারের ভেতরে কিংবা প্রধান প্রবেশমুখে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে বা নাচ-গান করে গিলাফ নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। নগর পুলিশের কমিশনার মো. আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী মাজার এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে এই নির্দেশনা দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ভক্তরা নাইওরপুল পয়েন্ট পর্যন্ত বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে আসতে পারবেন। তবে মাজারের মূল ফটকের আগেই, নূরজাহান হোটেলের সামনে এসে সেই আয়োজন বন্ধ করতে হবে। এরপর সীমিতসংখ্যক মানুষ সুশৃঙ্খলভাবে গিলাফ নিয়ে মাজারে প্রবেশ করবেন।
ওরসকে কেন্দ্র করে মাজার এলাকায় গাঁজা সেবনসহ ইসলামবিরোধী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, অতীতে ওরসকে ঘিরে অতিরিক্ত ভিড়, যানজট এবং বিশৃঙ্খলার অভিযোগ থাকায় এবার আগেভাগেই নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রতি বছর শাহজালালের (রহ.) ওরসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজারো ভক্ত সিলেটে জড়ো হন। গিলাফ মিছিল, ঢোল-বাদ্য, জিকির ও দলীয় শোভাযাত্রা দীর্ঘদিন ধরেই এই আয়োজনের দৃশ্যমান অংশ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঘিরে ‘শুদ্ধাচার’ বনাম ‘লোকজ সংস্কৃতি’ বিতর্কও তীব্র হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে পুলিশের এই সিদ্ধান্তকে অনেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখলেও, কেউ কেউ এটিকে ওরসের ঐতিহ্যবাহী পরিবেশ সীমিত করার পদক্ষেপ হিসেবেও দেখছেন।
যানজট এড়াতে ওরসে অংশ নেওয়া ভক্তদের গাড়ি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে না রেখে এমসি কলেজ মাঠ ও শাহী ঈদগাহ এলাকায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবকদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আগামী বৃহস্পতিবার (৭ মে) শুরু হচ্ছে শাহজালালের (রহ.) ৭০৭তম ওরস। অনুষ্ঠানকে ঘিরে মাজার এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।