
সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল নিয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছেছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে ফেরার পথ খুলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাতের দিকে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) জানায়, জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের প্রায় ১৫০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছে। বুধবার এটি কুতুবদিয়া চ্যানেলে পৌঁছে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে লাইটারিংয়ের মাধ্যমে তেল ইআরএলে পাঠানো হবে।
গত ২১ এপ্রিল সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে জাহাজটি বাংলাদেশে রওনা দেয়। মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী এই ট্যাংকারটি দীর্ঘ যাত্রা শেষে এখন দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি চালান নিয়ে এসেছে।
ইআরএল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই চালান পৌঁছানোর পর বৃহস্পতিবার থেকেই শোধনাগারটি পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতায় ফিরে যেতে পারে। এর আগে ক্রুড অয়েল সংকটের কারণে রিফাইনারির উৎপাদন সীমিত হয়ে পড়েছিল এবং কিছু ইউনিট আংশিকভাবে বন্ধ রাখতে হয়।
ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত বলেন, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। তেল সরবরাহ নিশ্চিত হলে এবং আবহাওয়াসহ পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে বৃহস্পতিবার থেকেই পাঁচটি ইউনিটে পূর্ণ উৎপাদন শুরু সম্ভব হবে।
এর আগে সর্বশেষ ১৮ ফেব্রুয়ারি অপরিশোধিত তেলবাহী একটি জাহাজ দেশে আসে। পরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে নতুন চালান আসা বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে ১৪ এপ্রিল থেকে ইআরএলের উৎপাদন কার্যক্রম বড় পরিসরে ব্যাহত হয়।
বাংলাদেশে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে মূলত ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়, যা ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিনসহ বিভিন্ন জ্বালানি উৎপাদন করা হয়। রিফাইনারিটির বার্ষিক সক্ষমতা প্রায় ১৫ লাখ টন হলেও দেশে ডিজেলের চাহিদা অনেক বেশি, যার বড় অংশ আমদানি নির্ভর।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই চালান সময়মতো পৌঁছানোয় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আমদানি নির্ভরতা ও সরবরাহ চেইন আরও শক্তিশালী করা জরুরি।