
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে বিভিন্ন দাবিতে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও তাঁদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলমান কর্মবিরতি স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনার পর আন্দোলনকারীরা এ সিদ্ধান্ত নেন।
কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে কর্মবিরতি স্থগিতের বিষয়টি জানান তাঁরা।
সোনামসজিদ আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আরিফ উদ্দিন ইতি বলেন, আগামী ১৫ দিন আগের নিয়মেই পণ্য খালাসের কার্যক্রম চলবে। এ সময় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের কর্মচারীদের হয়রানি করা যাবে না এবং তাঁদের সঙ্গে অকারণে দুর্ব্যবহার করা হবে না—এমন শর্তে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এর আগে গত ৩ নভেম্বর সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং তাঁদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাঁদের অভিযোগ, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে কিংবা কোনো কারণ ছাড়াই কর্মচারীদের হয়রানি করছে। কোনো ধরনের ভুল না থাকলেও ইচ্ছামতো তাঁদের কার্ড আটকে রাখা হচ্ছে। ফাইল জমা দেওয়ার পরও নানা জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি আগে থেকে কিছু না জানিয়ে নতুন নিয়ম চালু করেও তাঁদের ভোগান্তিতে ফেলা হচ্ছে।
এ ছাড়া কাস্টমস কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অশোভন আচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবি, সামান্য অজুহাতে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনকি নিয়মের বাইরে গিয়ে পণ্যের চালানে অতিরিক্ত কর ও জরিমানাও আদায় করা হচ্ছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে সোনামসজিদ কাস্টমস কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মাসুদ রানার সঙ্গে মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন ধরেননি।
এদিকে, বন্দর পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান পানামা পোর্ট লিঙ্ক লিমিটেডের অপারেশন ম্যানেজার কামাল হোসেন গত তিন দিন ধরে বন্দরে পণ্যবাহী ট্রাকের জট থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কর্মবিরতি প্রত্যাহারের পর বন্দরে পণ্য খালাসের কাজ আবার শুরু হয়েছে।
কামাল হোসেন আরও জানান, বন্দরে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় দুপুরে ভারত থেকে নতুন করে পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ না করানোর জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। ওই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে পণ্যবাহী ট্রাকের প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায়।