
রাজনৈতিক কারণে গেল বছরের আগস্টে ৩ ওয়ানডে আর টি টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসেনি ভারত। দ্বিপাক্ষিক সিরিজটি পিছিয়ে এ বছর সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়ার পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে টাইগারদের ভারতে না যাবার সিদ্ধান্তে যা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভারত–বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে যত না দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তার চেয়েও বেশি চিন্তা ছিল দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে। কিন্তু বিশ্বকাপ শেষ হতে না হতেই যেন সেই উত্তাপ অনেকটাই কমে গেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর বলছে, আগামী সেপ্টেম্বরে সাদা বলের সিরিজ খেলতে ভারতীয় টিম বাংলাদেশে আসছে।
এর প্রধান কারণ, বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের পর দুই প্রতিবেশি দেশের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের নতুন সরকার বিএনপি’র ক্ষমতায় আসায় অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের যে টানাপোড়েন ছিল, তা আর সেভাবে নেই। আগামী সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সফরে আসতে ইতিবাচক বার্তাই দিচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)।
বাংলাদেশের নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক দায়িত্ব নেয়ার পরই সাফ জানিয়েছিলেন, ক্রীড়া ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্কে উন্নতি ঘটাতে চান তিনি। এ প্রসঙ্গে বিসিবির এক কর্তা গণমাধ্যমে বলেন, ‘আগে তো অন্তর্বর্তী সরকার নিজেদের স্বার্থের জন্য ক্রিকেটকে ব্যবহার করছিল। এখন সেসব নেই। তা হলে সম্পর্ক আগের মতো না হওয়ার কী আছে।’
এর আগে, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের মাঝেই পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি ও আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন বিসিসিআই সহ সভাপতি রাজিব শুক্লা। সেখান থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের তিনি জানান, সম্ভাব্য সব পথ খুঁজে বাংলাদেশকে পুরো সন্তষ্ট করা হবে।
এদিকে সাম্প্রতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনে অনিশ্চিয়তা তৈরি হলেও বাংলাদেশের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন বিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি রাজিব শুক্লা। ২০৩১ সালের আগে বাংলাদেশ যে আরও একটি ক্রিকেটের বৈশ্বিক আসরের স্বাগতিক হবে তা আগেই জানিয়েছে আইসিসি ও বিসিবি। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও এ বিষয়ে আন্তরিক। বাংলাদেশের স্বার্থরক্ষায় পাশে থাকতে চায় বিসিসিআই।
এ প্রসঙ্গে রাজিব শুক্লা আরও বলেছিলেন, 'বাংলাদেশকে নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে, আমরা তাদেরকে একটা বৈশ্বিক আসর আয়োজনের সুযোগ দিব যা আন্তর্জাতিক ইভেন্ট হবে। বাংলাদেশ আমাদের দোস্ত, মিত্র বন্ধু। আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।' অর্থাৎ, সেপ্টেম্বরে ভারতের বাংলাদেশ সফর নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই মাঠে গড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।