
রাজধানীতে সীমান্তে পুশইন, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও কথিত আগ্রাসনের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ করেছে গণঅধিকার পরিষদ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা। বুধবার (১০ জুন) বিকালে বিজয়নগরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়ে পুরানা পল্টন, প্রেস ক্লাব হয়ে বিজয়নগর পানির ট্যাংকি মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন সমাবেশে বলেন, ‘৩০ লাখ শহীদের বিনিময়ে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে। কোনও দেশের তাঁবেদারি করার জন্য নয়। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সীমান্তে হত্যা বন্ধ করতে হবে। এদেশের জনগণ ভারত সরকারের এই মনোভাব সমর্থন করে না।’
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা এবং উসমান হাদীর খুনিকে দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছে দলটি।
হাসান আল মামুন অভিযোগ করেন, ভারত, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও লাউসের মাধ্যমে বাংলাদেশে ইয়াবার বিস্তার ঘটছে। মিয়ানমারকে মাদক পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের যুব সমাজকে ধ্বংস করতে সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার করা হচ্ছে।
গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান বলেন, ‘এখন ভারতকে আগের মতো চিন্তা করলে হবে না। এখন বাংলাদেশে তাদের পুতুল সরকার ক্ষমতায় নেই। ভারত যদি অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাতে চায়, তাহলে সবার আগে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, বিজিবির অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে বাহিনীর পূর্বের নাম বিডিআর পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়।
দলের উচ্চতর পরিষদের সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বলেন, ‘তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে ভারতের ৮ হাজারের বেশি অবৈধ লোক রয়েছে। যদিও বাস্তবে এই সংখ্যা আরও বেশি। তারা শুধু বাংলাদেশে কাজ করছে না বরং গুপ্তচরবৃত্তি করছে। এরা দেশের জন্য হুমকি, তাই তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। তারা সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কঠোর অবস্থানের আহ্বান জানান।