
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তজুড়ে হঠাৎ তৈরি হওয়া ‘পুশ-ইন’ আতঙ্ক ও অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা রুখে দিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পাশাপাশি দেশের সীমান্ত এলাকাগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিজিবির এই কঠোর নজরদারির হাতকে আরও শক্তিশালী করতে এবার সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বিপুলসংখ্যক আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং দ্রুত সাড়া দিতে অতিরিক্ত জনবল হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিশেষায়িত আনসার ব্যাটালিয়নকেও।
আজ সোমবার (৮ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দফতর থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
দাপ্তরিক ওই বিজ্ঞপ্তির বিবরণ অনুযায়ী, দেশের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ভৌগোলিক গুরুত্বসম্পন্ন মোট ১১টি সীমান্তবর্তী জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও থানা এলাকায় ইতোমধ্যে আনসার, ভিডিপি এবং টিডিপি সদস্যদের মাঠপর্যায়ে মোতায়েন সম্পন্ন হয়েছে। কঠোর সুরক্ষার আওতায় আসা এই জেলাগুলো হলো—চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, সিলেট, জামালপুর এবং খাগড়াছড়ি।
আনসার বাহিনীর নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত জনবল সরবরাহ নিশ্চিত করতে আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যদেরও প্রস্তুত ও সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের কথা উল্লেখ করে আরও বলা হয়, গত বছর বিজিবির সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা কার্যক্রমে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতে, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধ এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির কার্যক্রমে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে আনসার-ভিডিপি সদস্যরা। এর মাধ্যমে একটি সমন্বিত ও টেকসই নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।