
জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে সিলেটে ফের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জৈন্তাপুরে পরিত্যক্ত একটি ঘর থেকে এসব সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে র্যাব-৯।
সিলেটে আবারও উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ উদ্ধার করেছে র্যাব-৯। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) জৈন্তাপুর উপজেলার একটি অব্যবহৃত টিনের ঘরের ভেতর থেকে এসব বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় জনমনে শঙ্কা বাড়ছে।
র্যাব সূত্র জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিকেলে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার জৈন্তাপুর ইউনিয়নের কাটাগাং এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় একটি পরিত্যক্ত টিনের ঘর থেকে ১৪টি ইন্ডিয়ান পাওয়ার জেল ও ১৪টি নন-ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়, যা বিস্ফোরক তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
র্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম কর্মকর্তা) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘উদ্ধারকৃত এসব জেল এবং নন ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।’
নাশকতার উদ্দেশ্যে এসব আনা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘উদ্ধারকৃত এসব বিস্ফোরক সরঞ্জাম জৈন্তাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’
এর আগে গত ২৬ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলা থেকেও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। ওইদিন উপজেলার চারাগাঁও ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা মাইজগাঁও গ্রামে বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় ৩০ গজ ভেতরে শুকনো পাতার নিচে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ২৪টি ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উদ্ধার করে বিজিবি। এসব ডেটোনেটর দিয়ে শক্তিশালী ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) তৈরি করা সম্ভব, যা নাশকতার আশঙ্কা তৈরি করছে।
এ বিষয়ে সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল করিম কিম বলেন, ‘নির্বাচন অতি সন্নিকটে। এ রকম সময়ে উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার খুবই শঙ্কার বিষয়। শুধু বিস্ফোরক সরঞ্জাম নয়, প্রায়ই সীমান্ত এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র প্রবেশ ও উদ্ধারের খবরও গণমাধ্যমে দেখতে পাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘এভাবে সীমান্ত দিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র অনুপ্রবেশ হলে তা শুধু নির্বাচন নয়, দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকেও অস্থিতিশীল করতে পারে। বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই, দ্রুত ও গুরুত্বের সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’
র্যাব কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে মোট ৪ হাজার ৬৩০ গ্রাম বিস্ফোরক ও ২৪টি ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে উদ্ধার করা হয় ৩৬টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০৪ রাউন্ড গুলি, ৫টি ম্যাগজিন, একটি সাউন্ড গ্রেনেড, ৫টি পেট্রোল বোমা এবং ৫৩টি এয়ারগান।