
জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত ও ধূমপানের ক্ষতিকর প্রবণতা কমিয়ে আনতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে একটি বড় ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। নতুন বাজেটে সিগারেটের ফিল্টার তৈরির অপরিহার্য কাঁচামাল ও নিকোটিন আমদানির ওপর এক লাফে ৩০০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের একটি বিশেষ পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, তামাকজাত পণ্যে কড়াকড়ির পাশাপাশি সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে স্বাস্থ্য খাতে বেশ কিছু বড় ধরনের স্বস্তির খবর থাকছে। বিশেষ করে, হৃদরোগের চিকিৎসায় অত্যন্ত জরুরি হার্টের রিং এবং চোখের ছানি অপারেশনে ব্যবহৃত লেন্স আমদানির ওপর বিদ্যমান ১০ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হতে পারে।
একই সঙ্গে, দেশের বিপুলসংখ্যক কিডনি রোগীর জীবন রক্ষাকারী ডায়ালাইসিস সেবাকে আরও সাশ্রয়ী করতে এর সাথে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও আনুষঙ্গিক মেডিকেল পণ্যের ওপর কাস্টমস শুল্ক বা আমদানি শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ডায়ালাইসিস খাতের সার্বিক খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে এই খাতে ভ্যাট এবং আয়কর সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়ার পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
নতুন বাজেটে দেশের ক্রমবর্ধমান ফ্রিল্যান্সিং খাত ও ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্যও বড় ধরনের সুখবর আসতে পারে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের এই বিকাশমান অংশকে আরও গতিশীল করতে ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট তৈরির সাথে যুক্ত পেশাদারদের কর এবং ভ্যাট ছাড়ের বিশেষ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি সাধারণ চাকরিজীবী ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর করের বোঝা কিছুটা লাঘব করতে বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা বিদ্যমান স্তর থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় উন্নীত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবও সক্রিয় বিবেচনায় রেখেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায় ব্যবস্থা ও ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংস্কারের অংশ হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ‘ইনপুট-আউটপুট কোয়েফিশিয়েন্ট’ ঘোষণার একক আইনি ক্ষমতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। তবে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং বিনিয়োগকারীদের স্বস্তি দিতে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রচলিত করপোরেট করের হার আগামী অর্থবছরে সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রাখার চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার।