
কয়েক দিনের তীব্র গ্যাস সংকটের পর রাজধানীর সিএনজি স্টেশনগুলোতে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে অধিকাংশ স্টেশনে স্বাভাবিক চাপেই গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। এতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তিও অনেকটা কমেছে চালকদের।
রাজধানীর তেজগাঁও, মেরুল বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকার সিএনজি স্টেশনে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শনিবার সকাল থেকে গ্যাসের চাপ তুলনামূলক ভালো থাকায় স্বাভাবিক নিয়মেই যানবাহনে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।
তেজগাঁওয়ের আকিজ সিএনজি স্টেশনের এক বিক্রয়কর্মী জানান, সকালে স্টেশন চালুর পর থেকেই গ্যাস সরবরাহে কোনো সমস্যা হয়নি। আগের কয়েক দিনের তুলনায় চাপও ভালো রয়েছে। ফলে গ্রাহকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না।
সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতিতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন চালকরাও। প্রাইভেটকার চালক ইউনুস মিয়া বলেন, শনিবার গ্যাস নিতে এসে আগের মতো দীর্ঘ সারি দেখতে হয়নি। দ্রুতই প্রয়োজনীয় গ্যাস নিতে পেরেছেন এবং চাপও ভালো ছিল।
সিএনজি অটোরিকশাচালক নাসির হোসেনও একই অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, গত কয়েক দিন দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অল্প পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাচ্ছিল। অনেক সময় ৬০ থেকে ৭০ টাকার বেশি গ্যাস নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে শনিবার পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে এবং তিনি ২০০ টাকারও বেশি গ্যাস নিতে পেরেছেন।
উল্লেখ্য, মহেশখালীতে স্থাপিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে এলএনজি খালাসে সাময়িক জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এর প্রভাবে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ কমে যায়। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এর সরাসরি প্রভাব পড়ে।
গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় আবাসিক গ্রাহকদের পাশাপাশি সিএনজি স্টেশন, পরিবহন ও শিল্প খাতেও সংকট দেখা দেয়। রাজধানীর বিভিন্ন স্টেশনে কয়েক দিন ধরে গ্যাসের জন্য দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। কোথাও সীমিত পরিমাণে গ্যাস বিক্রি করা হয়, আবার সরবরাহ একেবারেই না থাকায় কিছু স্টেশন বন্ধ রাখার ঘটনাও ঘটে।
এতে সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়ে যানবাহন চলাচলেও। তবে শনিবারের পরিস্থিতিতে সংকট ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করেছে বলে মনে হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের চাপ ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় আপাতত চালকদের দীর্ঘ অপেক্ষার দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে।