
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে অজ্ঞাত এক রোগে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে সাড়ে ৬ হাজার কোয়েল পাখি মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
খামারির দাবি, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) থেকে রোববার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের খাসকান্দি মাধ্যচর গ্রামে তার খামারে এই বিপর্যয় নেমে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সচ্ছলতার আশায় ‘মরিয়ম পোল্ট্রি এন্ড কোয়েল পাখি খামার’ প্রতিষ্ঠা করেন সুফিয়ান নামে এক উদ্যোক্তা। চাকরির পেছনে না ছুটে নিজ উদ্যোগে প্রথমে ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগির খামার চালু করলেও প্রত্যাশিত লাভ না হওয়ায় পরে কোয়েল পালন শুরু করেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ অজ্ঞাত রোগে তার খামারে ব্যাপক পাখি মারা যায়। এতে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী সুফিয়ান স্থানীয় চিনি মিয়ার ছেলে।
সুফিয়ান জানান, তিনি অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল। এনজিওসহ বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিয়ে কয়েক মাস আগে প্রায় ৮ হাজার কোয়েলের বাচ্চা কিনে খামার শুরু করেন। অল্পদিনের মধ্যেই পাখিগুলো ডিম দেওয়া শুরু করে এবং প্রতিদিন ডিম বিক্রি করে তার আয় হতো প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা। খামার পরিচালনায় তিনি, তার পরিবারের সদস্যরা এবং আরও তিনজন শ্রমিক কাজ করতেন।
তিনি বলেন, হঠাৎ এক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পাখিগুলো ঝিমিয়ে পড়ে এবং প্রতি মিনিটে শত শত করে মারা যেতে থাকে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ প্রয়োগ করেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। যেগুলো এখনো বেঁচে আছে সেগুলোর অবস্থাও সংকটাপন্ন।
সুফিয়ান আরও জানান, খামার গড়ে তুলতে তার বিনিয়োগ ছিল প্রায় ৯ লাখ টাকা, যার অধিকাংশই ঋণ। ডিম বিক্রির আয় দিয়ে ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা থাকলেও আকস্মিক এই ক্ষতিতে তিনি চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। বর্তমানে খামারের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন তিনি।
বালুচর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলেক চান সজীব সন্ধ্যা ৬টার দিকে বলেন, খবর পেয়ে আমি নিজেই খামারে গিয়ে দেখি কোয়েল পাখিগুলো মারা আছে। বিষয়টা জানার পর দারুণভাবে মর্মাহত হয়েছি, এই খামারের ওপর নির্ভর ছিল তার গোটা পরিবার।
সিরাজদিখান উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শবনম সুলতানা বলেন, প্রাথমিকভাবে বলতে পারবো না কেন বা কি কারণে মারা যাচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখে তারপর বলা সম্ভব কি কারণ বা কি রোগে আক্রান্ত হয়েছে।