
মাঠের লড়াইয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারকে রাতের আঁধারে রাজপথে পিটিয়ে এবং পরে থানায় নিয়ে গিয়ে ওসির কক্ষে চরমভাবে হেনস্থা করার এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী অফ-স্পিনার নাঈম হাসানকে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান উল্টো ধমক দিয়ে বলেন, ‘চোখ নামিয়ে কথা বল’। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার জের ধরে ইতিমধ্যেই পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকসহ (এসআই) দুই সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) ম্যাচ শেষ করে নাঈম হাসান চট্টগ্রামে পৌঁছান। এরপর বিমানবন্দর থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা যোগে নিজ বাসায় ফেরার পথে লালখানবাজার ফ্লাইওভার এলাকায় তাঁর বাহনটি থামিয়ে তল্লাশি চালায় পুলিশ। ক্রিকেটার নাঈমের দেওয়া তথ্য মতে, সেখানে আকস্মিকভাবে একজন সাধারণ পোশাকধারী ব্যক্তি এবং দুজন পুলিশ ইউনিফর্ম পরিহিত সদস্য মিলে তাঁকে মারধর শুরু করেন। এ সময় তিনি নিজের খেলোয়াড়ী পরিচয় স্পষ্টভাবে তুলে ধরলেও পুলিশের বর্বর আক্রমণ থামেনি।
এই নৃশংস ঘটনার তীব্র প্রতিবাদে আজ শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও এলাকায় নিজ বাসভবনে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ক্রিকেটার নাঈম হাসান ও তাঁর পরিবার। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে ক্ষোভ উগড়ে দেন নাঈমের বাবা ও স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর মাহবুবুল আলম।
নিজের সন্তানের সাথে হওয়া এমন অপেশাদার আচরণের বিচার চেয়ে খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমানসহ দোষী পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং রিমান্ডে নেওয়ার জোর দাবি জানান মাহবুবুল আলম। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ওসি তো ব্যাগ দেখেই বুঝতে পেরেছিল ও একজন খেলোয়াড়। তারপরও পরিচয় পাওয়ার পর ‘চোখ নামিয়ে কথা বল’— এ কেমন সৌজন্যতা। এখন ওসি সাক্ষাৎকার দিয়ে মিথ্যা বলছেন যে ও নাকি দৌড়ে পালাতে চেয়েছিল, তাই হেঁচকা টান লেগেছে।’
নাঈমের বাবা সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরে আরও যোগ করেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি এসআই কামরুজ্জামান নামের একজন ভুল ইনফরমেশন দিয়েছিল। একজন আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়কে নিয়ে এই ভুল তথ্য কে দিল, তা আইডেন্টিফাই করা দরকার। এর পেছনে অন্য কোনো চক্রান্ত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।’
পুলিশ প্রশাসনের ঐতিহ্যগত বিভাগীয় ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে সাবেক এই কাউন্সিলর স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘শুনলাম অভিযুক্ত অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশে তো এমন নিয়ম আমি দীর্ঘদিন দেখেছি, সাসপেন্ড করে কিছুদিন পর আবার অন্য জায়গায় বহাল বা প্রমোশন দেওয়া হয়। এটা তো কোনো বিচার হলো না। আমরা চাই এদের গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হোক এবং রিমান্ডে এনে অন্য কোনো নিরপেক্ষ সংস্থা দিয়ে তদন্ত করা হোক, যাতে মূল ঘটনা উদঘাটিত হয়।’
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে অত্যন্ত আক্ষেপের সাথে জানানো হয় যে, পুলিশের এমন অতর্কিত ও অমানবিক হামলার শিকার হয়ে ক্রিকেটার নাঈম হাসান শুধু শারীরিকভাবেই রক্তাক্ত হননি, বরং মানসিকভাবেও চরম ট্রমা বা বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।