
সাকিবুল হাসান রানার হত্যার দ্রুত বিচার ও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে ফের রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় সড়ক অবরোধ করেছেন তেজগাঁও কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা।
বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, দুপুরে শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলন শুরু করেন। সড়ক অবরোধের কারণে ফার্মগেটে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। বিশেষ করে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ফার্মগেটে প্রবেশ এবং ফার্মগেট থেকে খামারবাড়ি দিকে যাওয়া রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়, ফলে সাধারণ মানুষ বড় ভোগান্তিতে পড়েছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, সাকিব হত্যার এক মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান বিচারিক অগ্রগতি দেখা যায়নি। তারা দাবি করেছেন, খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না। এই সময় তারা ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে পারে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এর আগে, ৪ জানুয়ারি (রোববার) একই দাবিতে ফার্মগেট মোড় অবরোধ করেন তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরা। ওইদিন পুলিশের মাধ্যমে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে গিয়ে স্বরাষ্ট্র ও আইন উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন আব্দুর রহমান রাফি, সাইফুর রহমান, ফাজাল আহমেদ, আবু বক্কর সিদ্দিক শরীফ ইসলাম, মিলিহা বিনতে নাফিজ এবং আরিফুল আলম।
সেদিন সংবাদ সম্মেলনে আব্দুর রহমান রাফি শিক্ষার্থীদের পক্ষে বলেন, “উপদেষ্টাদের বক্তব্যে যদি তারা সন্তুষ্ট হন, তবে আর কোনো কর্মসূচিতে যাবেন না। তবে সন্তুষ্ট না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
প্রসঙ্গত, ৬ ডিসেম্বর রাতে তেজগাঁও কলেজের ছাত্রাবাসে মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এতে অন্তত তিনজন শিক্ষার্থী আহত হন। গুরুতর আহত হন উচ্চমাধ্যমিকের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান রানা। তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হলেও চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১০ ডিসেম্বর দুপুর ১২:৩০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, ফার্মগেট এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে সড়ক অবরোধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানালেও আন্দোলনকারীরা তাদের দাবিতে অনড় রয়েছেন।