
শুরুতেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়েছিল সাইফ হাসান ও লিটন দাসের দারুণ জুটি, তবে সাইফের বিদায়ের সঙ্গে ভেঙে গেছে সেই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধ।
২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২১ রানে ২ উইকেট হারানোর পর তৃতীয় উইকেটে ৮২ রানের জুটি গড়ে দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ দেখান এই দুই ব্যাটার।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দুশ্চিন্তার। ২৪৮ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নাথান স্মিথের জোড়া আঘাতে তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত দ্রুত ফিরলে পাওয়ার প্লের ভেতরেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
কিন্তু সেই চাপের মুহূর্তেই দৃঢ়তায় ভর করে দাঁড়িয়ে যান সাইফ হাসান ও লিটন দাস, যেন ঝড়ের মাঝে হাল ধরা দুজন মাঝি।
ধীরে ধীরে ইনিংস গুছিয়ে নেন তারা। সাইফ খেলেন দায়িত্বশীল ইনিংস, ৫৯ বলে তুলে নেন অর্ধশতক। শেষ পর্যন্ত ৭৬ বলে ৫৭ রান করে বিদায় নেন তিনি, ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ১টি ছক্কা।
অন্য প্রান্তে লিটন দাসও সমানতালে এগিয়ে যান, সাইফ আউট হওয়ার সময় তার সংগ্রহ ছিল ৫৩ বলে ৩৮ রান।
এই ৮২ রানের জুটিই মূলত ম্যাচে বাংলাদেশকে ফিরিয়ে আনে। পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেট হারিয়েও ৫২ রান তোলার পর এই জুটির ওপর ভর করেই ধীরে ধীরে চাপ কাটিয়ে ওঠে দল। একসময় যে ইনিংস ধসে পড়ার শঙ্কা ছিল, সেটাই রূপ নেয় শক্ত প্রতিরোধে।
ওপেনিংয়ে সৌম্য সরকারকে নেওয়া হবে তা নিয়ে ম্যাচের আগে বেশ আলোচনা থাকলেও সাইফ হাসান জবাব দিয়েছেন তার ব্যাট দিয়েই। শুরুতে জীবন পাওয়া থেকে শুরু করে ইনিংসকে স্থিরতা দেওয়া, সব মিলিয়ে আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন তিনি।
তবে সাইফের বিদায়ে আবারও ম্যাচে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এখনও জয়ের পথ অনেকটাই বাকি, এখন দায়িত্ব নিতে হবে পরের ব্যাটারদের। লিটন দাস উইকেটে থাকায় আশা বেঁচে আছে, কিন্তু এই ইনিংসকে শেষ পর্যন্ত টেনে নেওয়ার ভার এখন পুরোপুরি মিডল অর্ডারের কাঁধে।