
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের উত্তাল সময়জুড়ে ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে—এক সাক্ষীর ভাষ্যে, এটি ছিল সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত।
রোববার (১২ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন ইমদাদুল হক মোল্লা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি এ সাক্ষ্য প্রদান করেন। শুনানির সময় পলাতক আসামি সজীব ওয়াজেদ জয় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না, তবে কারাগারে থাকা জুনায়েদ আহমেদ পলককে হাজির করা হয়। এর আগে, গত ১১ জানুয়ারি মামলাটিতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল।
জবানবন্দিতে ইমদাদুল হক মোল্লা জানান, তিনি ‘অন্টিমেক্স কমিউনিকেশন লিমিটেড’-এর পরিচালক এবং ২০২৩ সাল থেকে ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সংগঠনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই মহাখালীর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের দিন বিকেল ৪টা থেকে ধীরে ধীরে ইন্টারনেট সেবা বিঘ্নিত হতে শুরু করে। রাত ৯টার পর সারা দেশে পুরোপুরি ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ইন্টারনেট বন্ধের কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানা যায়, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ থেকে ব্যান্ডউইথ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এ থেকেই তিনি নিশ্চিত হন যে, এটি সরকারের সিদ্ধান্তেই করা হয়েছিল।
ইমদাদুল আরও বলেন, ২৩ জুলাই তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে তারা ইন্টারনেট চালুর অনুরোধ জানান। জবাবে প্রতিমন্ত্রী সেদিনই সেবা চালুর আশ্বাস দেন এবং ডাটা সেন্টারে আগুন লাগার কথা উল্লেখ করেন। তবে সাক্ষীর দাবি, এটি রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল কারণ আগুন লেগেছিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবনে, কোনো ডাটা সেন্টারে নয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভবনের বাইরে কিছু ফাইবার অপটিক কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশের অন্যান্য ডাটা সেন্টারের মাধ্যমে ইন্টারনেট চালু রাখা সম্ভব ছিল।