
নিয়োগ বন্ধ,সংযুক্তি ও শিক্ষক শূন্যতায় খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলা চরম ভাবে ব্যাহত হচ্ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ব্যাবস্থা।উপজেলায় ৯০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও বছরের পর বছর বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে। ফলে শিক্ষা ব্যাবস্থা সহ প্রশাসনিক কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
শিক্ষক স্বল্পতার কারণে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের ওপর চাপ বাড়ছে। এতে প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি ও বিদ্যালয়গুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা অধিকাংশই সহকারী শিক্ষক। তারা নিজের দায়িত্বের পাশাপাশি পুরো বিদ্যালয়ের পরিচালনা করছে।
এতে এক দিকে যেমন স্কুলের সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে সঠিক নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক কর্মকান্ড বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে ,তেমনি শিক্ষকদের পাঠদান কার্যক্রমে চরম বিঘ্ন ঘটছে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ক্ষতি হচ্ছে। একই সাথে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জবাদিহিতা না থাকায় শিক্ষকরা ঠিকাদারী সহ বিভিন্ন ব্যাবসার সাথে জড়িয়ে পড়ছে। সম্প্রতি মাদকের সাথেও সংশ্লিষ্টতা থাকার অভিযোগ রয়েছে। এতে শিক্ষার গুণগত মানও ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে।
অপর দিকে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ পার্বত্য জেলা পরিষদে হাতে হস্তান্তর হওয়ার পর থেকে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যাবস্থার চরম সংকটে পরার অভিযোগ রয়েছে। মেধার মুল্যায়ন না করে অর্থের প্রাধান্যে শিক্ষক নিয়োগ প্রাথমিক শিক্ষা ব্যাবস্থাকে আরেক ধাপ পিছিয়ে ধ্বংস ধার প্রান্তে উপনিত হয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, মাটিরাঙ্গা উপজেলা শিক্ষা অফিসের আওতায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৯০টি । তারমধ্যে ৫০টিতেই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকপদ শুন্য রয়েছে। অপর দিকে সহকারী শিক্ষক ৪৮০ জনের মধ্যে পদশূন্য রয়েছে ৩০টি। এছাড়াও নিজেদের সুবিদামত ১৪ জন শিক্ষক রয়েছে সংযুক্তিতে। যার মধ্যে ৭ জন উপজেলা ও ৭ জন জেলা সদরে সংযুক্তিতে রয়েছে। পাশাপাশি উপজেলায় ২৩ টি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে
চলতি বছরে ৫৮৭ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে ২৬ জন টেলেন্টপুল ও ৩ জন সাধারণ বিভাগে বৃত্তি পেয়েছে। বেসরকারী বিদ্যালয় হতে ৯ জন ট্যালেন্টপুুল ও ৪ জন সাধারণ ক্যাটাগরিতে বৃত্তি পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। যা সন্তোসজনক নয়। প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে দ্রুত চাহিদা মোতাবেক শিক্ষক নিয়োগ ও সংযুক্তি বাতিল করতে সংশ্লিষ্ট্য কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান অবিভাবকরা।
উপজেলার চলমান প্রেক্ষাপট হতে উত্তরণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের
সকল সংযুক্তি বাতিলের দাবি করে মাটিরাঙ্গা পেশাজীবি সংগঠন জিয়া পরিষদ সভাপতি হারুন রশিদ বলেন, শিক্ষক সংকট দীর্ঘ দিনের। তমধ্যে সংযুক্তি সংকটকে আরো চরমে নিয়ে গেছে। সংযুক্তি বাতিল,পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ ও জবাব দিহিতাই নিশ্চিত হলে সৃষ্ট সংকট হতে উত্তরণ সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে মাটিরাঙ্গা উপজেলা শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন,নিয়োগ,বদলি ও সংযুক্তি কোনটাই তার হাতে নয়। এসব পার্বত্য জেলা পরিষদের হাতে ন্যস্ত রয়েছে। তাছাড়া প্রতিবছর অবসর জনিত কারণে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হচ্ছে। এসব শূন্যপদ পূরণে নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। এছাড়া শূন্যপদের বিদ্যালয়গুলোতে বাড়তি নজর রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।