
বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই বাঙালির এক তুমুল আবেগের নাম, যেখানে ল্যাটিন আমেরিকার দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাকে কেন্দ্র করে উন্মাদনা পৌঁছায় চরমে। খেলাধুলার এই মহা-উৎসবের আবহে এবার সন্তানদের ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং পছন্দ-অপছন্দের প্রতি সম্মান জানানোর এক ব্যতিক্রমী ও সচেতনতার বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছেন দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে স্পষ্ট মত প্রকাশের জন্য পরিচিত এই গায়ক এবার অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাংলাদেশ সময় মধ্যরাত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা উঠেছে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের। বিশ্বজুড়ে শুরু হওয়া এই ফুটবল মহাযজ্ঞের ঢেউ আছড়ে পড়েছে বাংলাদেশেও। বরাবরের মতোই দেশের ফুটবলপ্রেমীদের সিংহভাগই ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার জোয়ারে ভাসছেন। এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের সমর্থকদের মধ্যকার আবেগ, কথার লড়াই কিংবা খুনসুটি কখনো কখনো বেশ বাড়াবাড়ি পর্যায়েও রূপ নেয়।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আসিফ আকবর তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট শেয়ার করেন। তিনি মনে করেন, শিশুরা কোন দলটিকে ভালোবাসবে বা সমর্থন করবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা তাদের থাকা উচিত; সেখানে বাবা-মার পছন্দ জোর করে চাপিয়ে দেওয়া মোটেও সমীচীন নয়।
নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে আসিফ আকবর লিখেছেন, "আপনার সন্তানকে জোর করে আর্জেন্টিনা কিংবা ব্রাজিলের সমর্থক বানাবেন না। তাদের পছন্দকে সমর্থন দিন।"
সংগীতশিল্পীর এই সময়োপযোগী পোস্টটি মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ভার্চুয়াল দুনিয়ায় তাঁর এই ইতিবাচক চিন্তাভাবনাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন নেটিজেনরা। সাধারণত দেখা যায়, পরিবারের বড়দের দেখাদেখি বা তাদের প্রভাবে ছোটরাও নির্দিষ্ট কোনো দলের সমর্থক হয়ে ওঠে। কিন্তু আসিফ চান, শিশুরা যেন কোনো ধরনের মানসিক চাপ ছাড়াই নিজেদের ভালোলাগা প্রকাশ করতে পারে।
আসিফের সেই পোস্টের কমেন্ট বক্সে সহমত পোষণ করে একজন লিখেছেন, "একদম ঠিক কথা বলেছেন আসিফ ভাই কারণ আমি ব্রাজিল করি আর আমার ছেলে আর্জেন্টিনা সমর্থন করে।"
অপর একজন নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, "নিজের মত চাপিয়ে নয়, তাদের নিজস্ব পছন্দ গড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়াই প্রকৃত অভিভাবকত্ব।"
আসিফ আকবরের এই সচেতনতামূলক বার্তাটিকে সাধারণ মানুষ কেবল ফুটবল দলের সমর্থনের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখছেন না। অনেকেই মনে করছেন, এর মাধ্যমে সন্তানদের নিজস্ব মতামত, চিন্তাভাবনা ও ব্যক্তিস্বাধীনতাকে সম্মান জানানোর একটি বৃহত্তর সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক বার্তা ফুটে উঠেছে।