
জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেটের ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি বিএনপির সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার পোশাক নিয়েও ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। আদালতে আইনজীবীদের ব্যবহৃত বিশেষ ‘ব্যান্ড’ পরে সংসদে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে সংসদে আইনি ও সাংবিধানিক ব্যাখ্যা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বক্তব্যের শুরুতেই রুমিন ফারহানা বলেন, আদালতের বাইরে এই বিশেষ ব্যান্ড পরিধান করা যায় না—এটি তিনি একজন আইনজীবী হিসেবে জানেন। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে কেন তিনি এটি পরে সংসদে এসেছেন, তা স্পিকার উপলব্ধি করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রস্তাবিত ৩১ হাজার ৯৮ কোটি ৮৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দের সমালোচনা করে তিনি বরাদ্দ কমিয়ে মাত্র ১ টাকা করার দাবি জানান। তিনি বলেন, মার্চ ও এপ্রিল—এই দুই মাসে দেশে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ড, ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি, ১৯৬টি অপহরণ, ২ হাজার ২১৪টি চুরি, ১২৯টি পুলিশ আক্রান্তের ঘটনা এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ৩ হাজার ৪৯৬টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। তার দাবি, দেশে প্রতিদিন গড়ে ১০টির বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটছে, যা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রমাণ।
রসাত্মক ভঙ্গিতে তিনি বলেন, পুরো বাজেটই যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেওয়া হয়, তবুও এ মন্ত্রণালয়ের অবস্থার খুব বেশি পরিবর্তন হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রশংসাও করেন।
রুমিন ফারহানার বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, সংসদের ভেতরে বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠানের বিধি-বিধান কার্যকর নয়। জাতীয় সংসদ নিজস্ব কার্যপ্রণালী বিধি (Rules of Procedure) অনুযায়ী পরিচালিত হয় এবং সংবিধান সংসদকে এ বিধি প্রণয়নের পূর্ণ ক্ষমতা দিয়েছে।
তিনি বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধিতে কোনো নির্দিষ্ট পোশাক পরে প্রবেশের বাধ্যবাধকতা বা নিষেধাজ্ঞা নেই। তাই রুমিন ফারহানার পরিধেয় পোশাককে তিনি ‘শোভন পোশাক’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং বলেন, সংসদ সদস্যদের নিজেদের পছন্দমতো শোভন পোশাক পরার স্বাধীনতা রয়েছে।
ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতির প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগ তাদের নিজস্ব বিধি তৈরি করতে পারে, তবে সেই বিধি সংসদের ওপর প্রযোজ্য নয়। একইভাবে সংসদও বিচার বিভাগের ওপর কোনো বিধান চাপিয়ে দিতে পারে না।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১০-১৫ বছরের তুলনায় খুন, ডাকাতিসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের সূচকে উন্নতি হয়েছে। ধর্ষণের মামলা বৃদ্ধির ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, আগে সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপের কারণে অনেক ভুক্তভোগী মামলা করতে পারতেন না। বর্তমানে অনলাইনে জিডি ও এফআইআর করার সুযোগ এবং প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না থাকায় অভিযোগ দায়েরের সংখ্যা বেড়েছে, যা সচেতনতা বৃদ্ধিরও প্রতিফলন বলে তিনি মন্তব্য করেন।