
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গঠনের পর সাংবিধানিক ও সংসদীয় গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিয়োগ সম্পন্ন করেছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। দলের শীর্ষ নেতাদের বিভিন্ন দায়িত্বে বসানোর পর এখন আলোচনায় এসেছে জাতীয় সংসদের উপনেতার পদটি। এই পদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নাম নিয়ে জোর আলোচনা চলছে।
গত ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর থেকেই সংসদে তার স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়।
এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ও রবিবার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে আসনে বসতেন, সেখানে সালাহউদ্দিন আহমদকে বসতে দেখা যায়। এরপর সংসদ উপনেতার পদে তাকে দেখা যেতে পারে—এমন আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে অনেকে মতামত দিচ্ছেন। তবে বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে চাইছেন না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক সংসদ সদস্য বলেন, দলীয় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত এখনো স্পষ্ট নয়। তবে সংসদে আগের মেয়াদে তার কার্যকর ভূমিকার কারণে প্রধানমন্ত্রীর গুডবুকে সালাহউদ্দিন আহমদের নাম সবার ওপরে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
কেন আলোচনায় সালাহউদ্দিন
দলীয় সূত্র বলছে, বিএনপির হাইকমান্ড কৌশলগত কারণে সংসদ উপনেতার পদটি এখনো খালি রেখেছে। এরই মধ্যে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। সংসদের অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ নেতাকেও গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও চিফ হুইপসহ সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো পূরণ হলেও এখনো উপনেতার পদটি শূন্য রয়েছে। এ পদে কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকেও এখন পর্যন্ত কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত তাকেও সংসদ উপনেতার পদে বিবেচনা করা হতে পারে বলে দলের কারও কারও ধারণা।
অন্যদিকে, সংসদে বিরোধী দলের সঙ্গে রাজনৈতিক ও আইনগত বিষয়ে বিতর্কে সালাহউদ্দিন আহমদের ভূমিকা ক্ষমতাসীন দলের অনেক সংসদ সদস্যের প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষ করে আইনগত বিষয়ে তার বিশ্লেষণ ও বক্তব্য উপস্থাপনের দক্ষতার কারণে দলের ভেতরে তিনি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। সংসদে বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের পক্ষে ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রেও তার ওপর আস্থা রয়েছে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের।
এ কারণে আগামী দিনে সংসদ উপনেতার দায়িত্বে সালাহউদ্দিন আহমদকে দেখা যেতে পারে বলে মনে করছেন বিএনপির কয়েকজন নেতা।
যা বলছেন বিএনপি নেতারা
এর আগে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর পাশের আসনে বসতেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ওই আসন স্বাভাবিকভাবেই খালি হয়েছে বলে মনে করছেন বিএনপির সংসদ সদস্যরা।
তাদের মতে, নতুন আসনবিন্যাসকে সরাসরি সংসদ উপনেতা নির্বাচনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে সংসদের আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে বাদ দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদকে ওই আসনে বসানোর বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন অনেকে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান এ বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আসলে বিষয়টি নিয়ে একেকজন একেকভাবে মূল্যায়ন করছেন। কিন্তু আমাদের কাছে এ ব্যাপারে কোনও তথ্য নেই। প্রধানমন্ত্রী ও দলের সংসদীয় বোর্ড নিশ্চয়ই বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।