
গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের সহিংসতার দায় জামায়াতের আমির এড়াতে পারেন না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইসরাইল হোসেন জীবনের জানাজা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি তাঁদের সংহতি রয়েছে। তবে শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যে সহিংসতা হয়েছে, তার দায় জামায়াতের আমির এড়াতে পারেন না। কারণ, লংমার্চ থেকে তিনি সরকারের সবকিছু তছনছ করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। তাঁর এমন বক্তব্যের পর শ্রমিক আন্দোলন শুরু হয় এবং পরে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ তছনছ শুরু করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করতে গার্মেন্টস শিল্পে আগুন দেওয়া হচ্ছে। কয়েকটি পোশাক কারখানা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বাস ও পুলিশের পাঁচ-ছয়টি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলা হচ্ছে। একটি ভিডিওতে ছাত্রলীগের শ্রমিক পরিচয়ধারীদের এক পুলিশ সদস্যকে লাঠি দিয়ে মারধর করতে দেখা গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রাশেদ খাঁনের দাবি, সাধারণ শ্রমিকেরা এ ধরনের সহিংসতায় জড়িত নন। তাঁরা সরকারের কাছে তাঁদের দাবি জানিয়েছেন। শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। এ বিষয়ে সরকারের ওপর আস্থা রাখতে চান সাধারণ শ্রমিকেরা। ইতিমধ্যে অনেক শ্রমিক কাজে ফিরেছেন বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে যারা আন্দোলনের নামে সহিংসতা করছে, তারা প্রকৃত শ্রমিক নয়; বরং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের লোকজন। শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরতে চাইলে আরেকটি ওয়ান-ইলেভেন পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ খাঁন বলেন, দুঃখজনক হলেও গণ-অভ্যুত্থানের আরেকটি শক্তি, যারা বর্তমানে বিরোধী দলে রয়েছে, তারা জামায়াতের আমিরের বক্তব্যের মাধ্যমে সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে।
এ সময় কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।