
শেয়ারবাজারে কারসাজি, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও বাড়িয়েছেন আদালত। নির্ধারিত দিনে তদন্ত প্রতিবেদন জমা না পড়ায় আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ ধার্য করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহাজাহান কবিরের আদালতে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত ছিল। তবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ১৭ মে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। পরে ১৬ জুন আদালত সাকিব আল হাসানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক আবুল খায়ের, তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, জাভেদ এ. মতিন, জাহেদ কামাল, হুমায়ূন কবির ও তানভির নিজাম।
এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব ব্যবহার করে সংঘবদ্ধভাবে শেয়ারবাজারে কারসাজি করতেন। পরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানির শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে আকৃষ্ট করা হতো। পরে উচ্চমূল্যে সেই শেয়ার বিক্রি করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, এভাবে চক্রটি ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছে। একই সঙ্গে আবুল খায়ের ওরফে হিরু শেয়ারবাজার থেকে অর্জিত অর্থের মধ্যে ২৯ কোটি ৯৪ লাখ ৪২ হাজার ১৮৫ টাকা স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসানের সহায়তায় বিভিন্ন খাতে স্থানান্তরের মাধ্যমে অর্থ পাচার করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আবুল খায়েরের নামে থাকা ১৭টি ব্যাংক হিসাবে ৫৪২ কোটি ৩১ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে বলা হয়েছে, তার কারসাজির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ও সোনালী পেপারস লিমিটেডের শেয়ারে বিনিয়োগ করেছিলেন সাকিব আল হাসান।
দুদকের অভিযোগ, ওই কারসাজির মাধ্যমে সাকিব আল হাসান শেয়ারবাজার থেকে ২ কোটি ৯৫ লাখ ২ হাজার ৯১৫ টাকা রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইনের নামে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। মামলাটির তদন্ত এখনো চলমান।