
টাকা জমা দিয়েও ফরম পূরণের জালিয়াতিতে এইচএসসি পরীক্ষায় বসা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়া নাটোরের আট শিক্ষার্থীর জীবনে অবশেষে স্বস্তি ফিরল। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের তাৎক্ষণিক ও বিশেষ পদক্ষেপে এই পরীক্ষার্থীরা পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা এবং দায়িত্বহীনতার অভিযোগে এক কলেজ কর্মচারীকে পুলিশ ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে।
আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
গণমাধ্যমের খবরে নড়েচড়ে বসল মন্ত্রণালয়
নাটোরের লালপুর উপজেলার আবদুলপুর সরকারি কলেজের আট শিক্ষার্থী ফরম পূরণের সম্পূর্ণ ফি পরিশোধ করার পরও গতকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে অংশ নিতে পারেননি। প্রবেশপত্র না পাওয়ায় পরীক্ষা দিতে না পারার এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি গতকাল বিভিন্ন গণমাধ্যমে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয়। বিষয়টি গণমাধ্যম মারফত শিক্ষামন্ত্রীর নজরে আসামাত্রই তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেন। মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শামীম আরা চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষ নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে মন্ত্রী এ বিষয়ে প্রতিবেদন করা সংশ্লিষ্ট সংবাদদাতার সঙ্গেও কথা বলেন।
কলেজ সহকারীর জালিয়াতি ও প্রথম দিনের পরীক্ষার সমাধান
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আবদুলপুর সরকারি কলেজের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণের টাকা নিলেও তা বোর্ডের তহবিলে যথাযথভাবে জমা করেননি। এই অর্থ আত্মসাতের কারণেই বোর্ড থেকে শিক্ষার্থীদের কোনো প্রবেশপত্র ইস্যু করা হয়নি।
শিক্ষামন্ত্রীর কড়া নির্দেশের পর আজ শুক্রবার রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড দ্রুত ওই আট শিক্ষার্থীর ফরম পূরণের যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। এর ফলে আগামীকাল শনিবার থেকে তারা নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে বাকি পরীক্ষাগুলোতে অংশ নিতে পারবেন। এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার যে পরীক্ষাটি হয়ে গেছে, সেটির বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বোর্ডের প্রচলিত নিয়মানুযায়ী বিশেষ সুবিধা বা মূল্যায়ন পাবেন।
তদন্ত কমিটি গঠন ও অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনা করে শিক্ষামন্ত্রী নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হক এবং লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলামের সঙ্গে টেলিফোনে সরাসরি কথা বলেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। মন্ত্রীর আদেশের পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারকে গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নিয়েছে। তার বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
পাশাপাশি, ঘটনার গভীরতা খতিয়ে দেখতে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড। আবদুলপুর সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদকে এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে।
বগুড়াতেও মিলল তাৎক্ষণিক সমাধান
অনুরূপ এক জালিয়াতি ও ভুলের ঘটনা ঘটেছিল বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে। সেখানে নির্ধারিত সময়ে ফরম পূরণের টাকা দিয়েও রেজিস্ট্রেশন নম্বরে ভুল থাকার কারণে এক পরীক্ষার্থীর অংশ নেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। এই অভিযোগটি শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পৌঁছালে তিনি টেলিফোনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। ইতিমধ্যে ওই শিক্ষার্থীরও ফরম পূরণের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং তিনিও আগামীকাল শনিবার থেকে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে পরীক্ষায় বসতে পারবেন।