
মাত্র আট মাসের ব্যবধানে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আবারও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (৫ জুন) রাতে কার্গো ভিলেজের আমদানি অংশে অবস্থিত কুরিয়ার সার্ভিস জোনে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস ও বিমানবাহিনীর দ্রুত তৎপরতায় বড় ধরনের ক্ষতি ছাড়াই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, শুক্রবার রাত ১১টা ২৪ মিনিটে কার্গো ভিলেজের ৯ নম্বর গেটে আগুন লাগার খবর পায় তারা। শুরুতে শাহজালাল বিমানবন্দরের নিজস্ব ফায়ার ইউনিট সেখানে দ্রুত কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের আরও ছয়টি ইউনিট এবং বিমানবাহিনীর ‘ঘাঁটি এ কে খন্দকার’ থেকে অগ্নিনির্বাপক গাড়ি ও বিশেষ দল এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে অংশ নেয়।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেইন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহমুদুল হাসান রাত দেড়টার দিকে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বলেন, “রাত ১১টা ৩৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে (আন্ডার কন্ট্রোল) আসে এবং রাত ১টা ৫ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ (এক্সটিংগুইশ) করা সম্ভব হয়।”
তিনি আরও জানান, বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের যে অংশে বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসগুলো তাদের পার্সেল ও মালামাল হ্যান্ডল করে, সেখানকার একটি কনটেইনার থেকে মূলত আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “রাত আনুমানিক ১১টা ২৫ মিনিটের দিকে ৯ নম্বর গেট সংলগ্ন কুরিয়ার অপারেশনের একটি কনটেইনারের ভেতরে এবং পাশে প্রথম আগুন দেখতে পাওয়া যায়। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমাদের নিজস্ব ফায়ার ইউনিট, সিভিল ফায়ার সার্ভিস এবং বিমানবাহিনীর দল এসে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, রাত ১টার পর সেখানে কোনো আগুন বা ধোঁয়া ছিল না। তবে অন্য কোনো সম্ভাব্য সূত্র বা শর্ট সার্কিট থেকে পুনরায় আগুন লাগার ঝুঁকি রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার কারণে বিমানবন্দরের মূল রানওয়ে বা ফ্লাইট ওঠানামায় (ফ্লাইট শিডিউল) কোনো ধরনের বিঘ্ন বা সমস্যা সৃষ্টি হয়নি বলে জানান এই কর্মকর্তা।
এর আগে গত বছরের (২০২৫ সালের) অক্টোবর মাসেও শাহজালাল বিমানবন্দরের এই আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সের কুরিয়ার সার্ভিস অংশেই (খাঁচায়) একটি অত্যন্ত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল। সে সময় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের রেকর্ডসংখ্যক ৩৭টি ইউনিটকে কাজ করতে হয়েছিল এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লেগেছিল দীর্ঘ ২৭ ঘণ্টা। বারবার একই সংবেদনশীল স্থানে আগুনের ঘটনা ঘটায় বিমানবন্দরের সার্বিক অগ্নি-নিরাপত্তা ও কন্টেইনার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।