বিশ্বজুড়ে সংগীত তারকা হিসেবে পরিচিত হলেও মানবিক কর্মকাণ্ডেও দীর্ঘদিন ধরে সমানভাবে প্রশংসিত শাকিরা। শিক্ষা, শিশু কল্যাণ ও দরিদ্র মানুষের উন্নয়নে তার দাতব্য উদ্যোগ বহু বছর ধরেই আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত। সেই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিরই আরেকটি উদাহরণ দেখা গেল বিশ্বকাপকে ঘিরে।
উগান্ডার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নাচের দল ‘ট্রিপলেটস ঘেটো কিডস’-কে নিজের ‘দাই দাই’ গানের মিউজিক ভিডিওতে জায়গা দিয়েছেন শাকিরা। শুধু একটি পরিবেশনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ নয়, বিশ্বের কোটি কোটি দর্শকের সামনে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার মঞ্চ করে দিতে চেয়েছিলেন তিনি।
এক সাক্ষাৎকারে শাকিরা জানান, বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক সংগীতে দলটির নাচের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর সেটি দেখেন তিনি। শিশুদের প্রাণবন্ত পরিবেশনা, উদ্যম এবং সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও সৃজনশীল উপস্থাপনা তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। পেশাদার বাদ্যযন্ত্রের বদলে কাঠের তক্তা, দড়ি, তার ও বোতলের ঢাকনা দিয়ে তৈরি করা কৃত্রিম গিটার ও মাইক্রোফোন ব্যবহার করেও তারা যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে নেচেছে, সেটি আন্তর্জাতিক মানের বড় মঞ্চের পরিবেশনার কথা মনে করিয়ে দেয় বলে মনে করেন এই গায়িকা।
শিশুদের জীবনসংগ্রামের গল্পও তাকে স্পর্শ করে। দলটির অনেক সদস্যই এতিম অথবা নিম্নআয়ের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার থেকে উঠে এসেছে। শাকিরা বলেন, এই বাস্তবতা তাকে নিজের শৈশবের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।কলম্বিয়ার ব্যারানকিয়ার একটি দরিদ্র এলাকায় বেড়ে ওঠা এই শিল্পীর বিশ্বাস, বিশ্বমঞ্চ শুধু অর্থ ও সুযোগ-সুবিধা থাকা মানুষের জন্য নয়, খালি পায়ে মাটিতে নেচেও প্রতিভার স্বাক্ষর রাখা শিশুদের জন্যও উন্মুক্ত হওয়া উচিত।
মিউজিক ভিডিওতে অংশ নেওয়ার পর দলটিকে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালের বিরতির অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার আমন্ত্রণও জানিয়েছেন শাকিরা।
এই উদ্যোগকে দীর্ঘমেয়াদি মানবিক সহায়তায় রূপ দিতে ‘দাই দাই’ গান থেকে নিজের প্রাপ্য সব অর্থ ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ডে দান করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এই তহবিলের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলের শিশুদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নে সহায়তা দেওয়া হবে।
দাতব্য কর্মকাণ্ডে শাকিরার সম্পৃক্ততা নতুন নয়। শিক্ষা বিস্তারে কাজ করা তার প্রতিষ্ঠিত ‘পিয়েস দেসকালসোস’ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বহু বছর ধরে দরিদ্র শিশুদের জন্য বিদ্যালয় নির্মাণ ও শিক্ষাসহায়তা দেওয়া হচ্ছে। মানবিক উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও একাধিক সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশের সঙ্গেও রয়েছে শাকিরার মানবিক সংযোগ। ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে বাংলাদেশ সফরে এসে ক্ষতিগ্রস্ত শিশু ও পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণে ভূমিকা রাখেন। তার এই সফরও মানবিক কাজের প্রতি দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারেরই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।