
শরীয়তপুর সদর উপজেলার শৌলপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভাষানী খানের বাড়িসহ নয়টি বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সমর্থকরা বলছেন, এই হামলা তার বিএনপিতে যোগ দেওয়ার মাত্র সাত দিনের মাথায় ঘটেছে। এসময় তিনটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে নয়টার দিকে সদর উপজেলার চরগয়ঘর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, ভাষানী খান আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি শরীয়তপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। ১৭ জানুয়ারি বিএনপি মনোনীত শরীয়তপুর-১ আসনের প্রার্থী সাঈদ আহমেদ আসলামের একটি সভায় তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন। হামলার শিকার বাড়িগুলো তার সমর্থকদের।
ভাষানীর পরিবারের দাবি, শুক্রবার রাতে প্রথমে দুর্বৃত্তরা চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলা চালায়। ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। ভাষানীর সমর্থকদের আরও আটটি বাড়িতে একইভাবে হামলা চালানো হয়, যার মধ্যে তিনটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ঘটনার সময় ইউপি চেয়ারম্যান ভাষানী নিজে বাড়িতে ছিলেন না; তিনি ও তার স্ত্রী সন্তানদের কাছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গেছেন।
ভাষানীর শাশুড়ি রাশিদা বেগম বলেন, “মেয়ের জামাতা ও মেয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকায় আমি বাড়িতে ছিলাম। ককটেল বোমার শব্দে ঘুম ভেঙে গেলে ১৫-২০ জন দরজা ভেঙে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। তাদের টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। কারা এই হামলা চালিয়েছে তা এখনও বোঝা যাচ্ছে না।”
চেয়ারম্যানের সমর্থক ইদ্রিস খান জানান, “আমরা চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলাম। তাই স্থানীয় বিএনপির একটি পক্ষ আমাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে হুমকি-ধমকি দিচ্ছিল।”
ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আহমেদ আসলাম। তিনি বলেন, “এই ধরনের হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক। সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমণ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ নির্বাচনের পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যারা জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
শরীয়তপুর সদরের চিকন্দী পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক গোলাম রাসূল জানান, “শৌলপাড়া ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িসহ ৯টি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তিনটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা হয়েছে। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি। ত্রুটিপূর্ণ ককটেল সহ তিনটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।”