.png)
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ইস্যুতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিলেটে নির্ধারিত সমাবেশ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল। তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে একাত্তরের গণহত্যা ভাস্কর্য চত্বরে শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে ছাত্রশিবিরের আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ইব্রাহিম খলিল। তিনি বলেন, ‘২০ তারিখে শাকসু নির্বাচন না হলে তাদের তথাকথিত দেশনায়ক তারেক রহমানের সিলেটের সমাবেশ বন্ধ করে দিন।’ এ সময় ছাত্রসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সিলেটের সড়কপথ, রেলপথ— সবকিছু বন্ধ করে দিন। যারা শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার হরণ করে, তাদের সমাবেশ করার কোনো অধিকার থাকতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আপনাদের কল্যাণকামী। শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার বন্ধ করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা যায় না। ভোটাধিকার হরণের কাজ আগে করেছিল, ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার পেটুয়া বাহিনী ছাত্রলীগ।’
এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে জবি শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. মোজাম্মেল মামুনের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় দুপুর আড়াইটার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে রফিক ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়।
সমাবেশে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ‘আমাদের আবেগের জায়গা তারেক রহমান। আপনারা গতকাল মানববন্ধন করেছেন। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নাকি শাকসু নির্বাচন বানচাল করেছে। অথচ জকসু নির্বাচনসহ সারা দেশের সব ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্য ছাত্রদল আন্দোলন করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের জন্য আমরা চেষ্টা করছি ও করব। কিন্তু দেশনায়ক তারেক রহমানকে নিয়ে কোনো কটূক্তি হলে এই ক্যাম্পাসে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে আপনাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে।’
জবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, ‘আমাদের আবেগের জায়গা নিয়ে সমালোচনা করবেন সেটা আপনাদের অধিকার। কিন্তু ফ্যাসিবাদী ধারায় হলে সেখানে আমাদের কথা আছে। আপনারা আওয়ামী লুঙ্গীর নিচে থেকে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন আপনারা এ প্রতিফল ঘটাতে চাইলে এর উত্থান আমরা হতে দিব না। বিশ্বজিৎ যখন রক্তাক্ত হয়েছে, আপনাদের মত ছাপছি, আমরা পাইনি। যখন কোটা আন্দোলন চলছে তখন আপনারা ফ্যাসিবাদের স্লোগান দিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা সহনশীলতার রাজনীতি করেন, সেটা সমাজে প্রকাশ করতে পারবেন। আপনারা সেই কথা বলেন যেটা পরিবারের কাছে বলতে পারবেন। আপনারা সেই ফ্যাসিবাদের মত আচারণ করবেন না তাহলে ‘দিল্লি গেছে স্বৈরাচার, পিন্ডি যাবে রাজাকার’।’