
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) বরিশাল ক্যাম্পাসে নির্মাণাধীন মেইন গেটের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মেইন গেটে নির্মিত পিলারগুলো সোজাসুজি না রেখে বাকা অবস্থায় তোলার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক নির্মাণের কাজ প্রায় ছয় মাস আগে শুরু হলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। পিলার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের উপকরণ, যা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গেটের পিলার সোজা না হয়ে স্পষ্টভাবে বেঁকে রয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে গেটের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হওয়া সত্ত্বেও নির্মাণকাজে মান নিয়ন্ত্রণের কোনো দৃশ্যমান তদারকি নেই। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলা ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের গাফিলতির কারণেই এমন অনিয়ম ঘটছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই নির্মাণ প্রকল্পের জন্য প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় পার হলেও দায়িত্বে অবহেলা ও পরিকল্পনার অভাবে কাজের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি।
দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে চলমান গেট নির্মাণের কারণে মেইন সড়ক দিয়ে চলাচল করা শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি ক্রমেই বাড়ছে এবং ক্যাম্পাসের বাস প্রবেশেও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে গেট না থাকায় সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাস চত্বরে স্থানীয়দের অনিয়ন্ত্রিত চলাফেরা লক্ষ্য করা যায়, যা দুটি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার কাজের গতি বাড়ানোর জন্য সতর্ক করা হলেও তা আমলে নেয়নি তারা। নিম্নমানের নির্মাণকাজ ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অসন্তোষ বেড়েই চলেছে।
গেট না থাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী প্রক্টর প্রফেসর ড. আলী আজগর বলেন," আমি কয়েকবার ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজের গতি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছি। কিন্তু তারা নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সময় নিয়েছে। ইতোমধ্যে গেটের কাঠামোগত কিছু ত্রুটিও লক্ষ করা যাচ্ছে। গেট না থাকায় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা বিষয়টিও আমাদের জন্য উদ্বেগের।"
ঠিকাদার রাফি মোল্লা বলেন," বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে নির্মাণকাজ নির্ধারিত গতিতে সম্পন্ন হয়নি। তবে তাঁর দাবি, প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমা এখনো শেষ হয়নি এবং কাজ সম্পন্ন করতে আরও প্রায় দুই মাস সময় বাকি রয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, নির্মাণকাজে মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে এবং ভিমে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি রড দেওয়া হয়েছে।"
পিলারের কাঠামো বেঁকে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এটিকে নির্মাণজনিত ত্রুটি বলে স্বীকার করেন। তিনি জানান,"বাকা হয়ে যাওয়া অংশটি ভেঙে পুনরায় নতুন করে নির্মাণ করা হবে।"
প্রজেক্ট মনিটরিং কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. আহসানুর রেজা বলেন, “বিভিন্ন কারণে নির্মাণকাজের অগ্রগতি কিছুটা ধীরগতির হয়েছে। পিলারের কাঠামোগত পরিবর্তন নিয়ে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। যে অংশটি বেঁকে গেছে, সেটি ভেঙে পুনরায় নতুন করে নির্মাণ করতে বলা হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুত কাজটি সম্পন্ন হবে।”
এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলামের সাথে মুঠুফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।