
ভারতের বা অন্যান্য আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ২০০৬ সালের পর এই প্রথম ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লিটানি নদী অতিক্রম করে অগ্রসর হয়েছে এবং তারা অন্যতম প্রধান শহর নাবাতিয়াহকে অবরুদ্ধ করার অবস্থানে রয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) লেবাননের জ্যেষ্ঠ সামরিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ইসরায়েলি বাহিনী লিটানি নদী পার হয়েছে, যা এর আগে ইসরায়েল তাদের অনানুষ্ঠানিক বাফার জোনের সীমানা হিসেবে ঘোষণা করেছিল।
যুদ্ধের বিস্তার ও নাবাতিয়াহর পরিস্থিতি
লেবাননে চলমান যুদ্ধটি মূলত গত মার্চের শুরুতে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে ইসরায়েলে হামলা শুরুর মাধ্যমে তীব্র রূপ নেয়। ইসরায়েল তাদের এই স্থল অভিযানের ন্যায্যতা হিসেবে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এবং তাদের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করার কথা উল্লেখ করে আসছে। তবে চলমান এই লড়াইয়ের কারণে দক্ষিণ লেবাননের বিশাল অঞ্চলের বেসামরিক মানুষ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছেন। ইতিমধ্যে প্রায় ১৪ জন বেসামরিক মানুষ ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। লেবাননের সরকারি কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা করলেও বর্তমান বাস্তবতায় তা অত্যন্ত কঠিন প্রমাণিত হচ্ছে।
মানবিক সংকট ও সাধারণ মানুষের বাস্তুচ্যুতি
এই সংঘাতের ফলে দক্ষিণ লেবাননে এক ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ ও ক্রমাগত বোমাবর্ষণের কারণে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া সাধারণ মানুষের আশ্রয় নেওয়ার মতো বিকল্প সুযোগ খুবই সীমিত। বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, লেবাননের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশের বেশি—অর্থাৎ প্রায় ১২ লাখ মানুষ—ইতিমধ্যে এই তীব্র লড়াইয়ের কারণে বাস্তুচ্যুত ও শরণার্থীতে পরিণত হয়েছেন।
লিটানি নদী অতিক্রমের ঐতিহাসিক ও সামরিক তাৎপর্য
২০০৬ সালের যুদ্ধের পর থেকে লিটানি নদীকে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যকার একটি প্রধান বিভাজন রেখা হিসেবে বিবেচনা করা হতো। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী, এই নদীর দক্ষিণ তীরে হিজবুল্লাহর কোনো সশস্ত্র উপস্থিতি থাকার কথা ছিল না। ফলে ইসরায়েলি বাহিনীর এই নদী পার হয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হওয়া এবং নাবাতিয়াহর মতো হিজবুল্লাহর প্রধান ঘাঁটির প্রবেশদ্বারে পৌঁছে যাওয়াকে এই যুদ্ধের একটি অত্যন্ত বড় এবং সংবেদনশীল মোড় হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।