
বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালের ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ানোকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। লা লিগা শিরোপা উদ্যাপনের সময় ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শনের ঘটনায় ইসরায়েল ও স্পেনের মধ্যে কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার, যখন বার্সেলোনা শিরোপা জয়ের পর ছাদখোলা বাসে শহরজুড়ে বিজয় মিছিল করে। সেই শোভাযাত্রায় হাজারো সমর্থকের সামনে ইয়ামাল ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে উল্লাস করেন। তার এই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, বিষয়টি কোনো পরিকল্পিত রাজনৈতিক বার্তা নয়, বরং মুহূর্তের আবেগে করা স্বতঃস্ফূর্ত একটি আচরণ। তবে ইয়ামালের ধর্মীয় পরিচয় ও ব্যক্তিগত অবস্থানের কারণে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল ইস্যুতে তার সংবেদনশীলতা আগেও আলোচনায় এসেছে।
এই ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করে ইয়ামালের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও ইহুদিবিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ তোলেন। তিনি বার্সেলোনার ক্লাব কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান, যেন তারা খেলোয়াড়ের এমন আচরণ থেকে নিজেদের দূরে রাখে।
কাৎজ তার বক্তব্যে দাবি করেন, ইসরায়েল বর্তমানে হামাসের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে এবং এ প্রেক্ষাপটে এমন বার্তা উদ্বেগজনক। তবে তিনি ইয়ামালের আচরণের নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা না দিয়েই সমালোচনা করেন।
এর জবাবে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, একটি দেশের পতাকা প্রদর্শনকে ঘৃণা উসকে দেওয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা বাস্তবতা বিকৃতি ছাড়া কিছু নয়। তার মতে, ইয়ামাল কেবল ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন, যা স্পেনের বহু নাগরিকের অনুভূতির প্রতিফলন।
অন্যদিকে গাজায় যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইয়ামালের এই পতাকা প্রদর্শনকে অনেকে প্রতীকী অবস্থান হিসেবেও দেখছেন। বিভিন্ন পক্ষ সামাজিক মাধ্যমে তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে পোস্ট দিয়েছে এবং তার ছবিও ছড়িয়ে পড়ে।
বার্সেলোনা ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইয়ামাল কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দেননি এবং তার উদ্দেশ্য কোনো জনগোষ্ঠী বা দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ছিল না। ক্লাবটি পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা বুঝতে পারছে বলেও জানানো হয়।